মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সকল অফিস ধূমপান ও তামাক মুক্ত ঘোষণার উদ্যোগ

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ পঠিত: ২৭ বার

স্টাফ রিপোর্ট:- জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো অধীনস্থ দেশের সকল কার্যালয় প্রাঙ্গণকে শতভাগ তামাকমুক্ত এলাকা ঘোষণা এবং তা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-র মহাপরিচালক মো: শামীমুল হক।

আজ বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা)-এর কারিগরি সহায়তায় ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার মুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য আমাদের শরীরে ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকার করে না। অসংক্রামক রোগের অন্যতম কারণ হলো তামাকজাতদ্রব্য। তাই আমাদের সবার উচিৎ তামাকজাত দ্রব্য থেকে নিজেদের বিরত রাখা।

উবিনীগের প্রতিনিধির মধ্যমে মুল প্রবন্ধে তামাক ও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব, ধূমপানের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি, পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর দিক এবং তামাক ব্যবহারের বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হয়। ধূমপান ও তামাকজনিত কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লক্ষ মানুষ মৃত্যু বরণ (টোব্যাকো অ্যাটলাস, ২০২৫) এবং ৬১ হাজারেরও বেশি শিশু পরোক্ষ ধূমপানের সৃষ্ট রোগে ভুগছে যা খুবই উদ্বেগজনক।

উপস্থাপিত তথ্যে আরও দেখানো হয়, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ বা ৩৫.৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। শুধু কর্মক্ষেত্রেই ৪২.৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসেন। এছাড়া ২০২৪ সালে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যেখানে একই সময়ে সরকার রাজস্ব পেয়েছে মাত্র ৪১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিবিএস-এর উপমহাপরিচালক জনাব মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম বলেন, একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে শুধু ভবনের ভেতর নয়, পুরো অফিস প্রাঙ্গণকে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য মুক্ত করা জরুরি। অফিস প্রাঙ্গণে ধূমপানের সুযোগ থাকলে ধূমপানমুক্ত পরিবেশের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কর্মক্ষেত্র শতভাগ ধূমপান ও তামাকমুক্তকরণ হলে তা কর্মী্দের ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন তামাক গ্রহণে নিরুৎসাহিত করবে এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিবিএস-এর স্যাম্পল ভাইটাল সার্ভিলেন্স সিস্টেম ও এসডিজি সেল এর ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা জনাব মো: আলমগীর হোসেন বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য মুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা একটি সুস্থ, নিরাপদ ও জনবান্ধব কর্মপরিবেশ গড়ে তুলবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে প্রতিদিন বিভিন্ন সেবা গ্রহণে আগত সেবাগ্রহীতা ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাবেন।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সম্পূর্ণ অফিস প্রাঙ্গণকে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য মুক্ত ঘোষণা ও কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধন ২০২৬) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুর হারও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে পরিসংখ্যান ব্যুরোর এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করবে বলে তারা মনে করেন। পরিসংখ্যান ব্যুরো শুধু তথ্য নিয়েই কাজ করে না সামাজিক কর্মকাণ্ডতেও অংশগ্রণ করে তার প্রতিফলন ঘটবে।

উক্ত আলোচনা সভায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিভিন্ন উইং এর পরিচালক, উপ-পরিচালক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উবিনীগ ও তাবিনাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *