দলের বিরুদ্বে ভোট পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতির বিরুদ্ধে
পিরোজপুর প্রতিনিধি:- পিরোজপুরের নাজিরপুরে বিএনপির এক ওয়ার্ড সভাপতির বিরুদ্ধে দলীয় কর্মীকে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের পরিবর্তে জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ব্যাপক আলোচনা চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অভিযোগকারী মো. আব্বাছ মিয়া স্থানীয় বিএনপির একজন কর্মী। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত মো. হারুনুর রশিদ তাঁর সম্পর্কে মামা এবং তিনি দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
আব্বাছ মিয়ার অভিযোগ, সম্প্রতি হারুনুর রশিদ তাঁকে ডেকে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এলাকার ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। একপর্যায়ে ভোটারদের মধ্যে কোন প্রতীকের সমর্থন বেশি এমন প্রশ্ন করা হলে আব্বাছ মিয়া ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার সমর্থন প্রায় সমান বলে জানান।
এরপর হারুনুর রশিদ তাঁকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ আব্বাছ মিয়ার। এ সময় বিএনপির অভ্যন্তরে আওয়ামী লীগের অনুসারীরা প্রভাব বিস্তার করছে বলেও যুক্তি দেওয়া হয় বলে তাঁর দাবি।
আব্বাছ মিয়া বলেন, একজন দায়িত্বশীল ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতির কাছ থেকে অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতীকে ভোট দেওয়ার পরামর্শ পাওয়া তাঁর কাছে অপ্রত্যাশিত। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দলীয়ভাবে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এদিকে হারুনুর রশিদের আপন ভাতিজা ও দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও নির্বাচনী কেন্দ্র পরিচালনার বরাদ্দ অর্থের হিসাব না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানাগেছে ,একটি ভোটকেন্দ্রের পরিচালনা ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ৩৮ হাজার টাকার পূর্ণাঙ্গ হিসাব দেওয়া হয়নি। কমিটির কয়েকজন সদস্য অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ তুলে স্বচ্ছ হিসাবের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। চাচা ভাতিজাকে ঘিরে পৃথক দুটি অভিযোগে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষও দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. হারুনুর রশিদ ও মো. নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
