ভারত থেকে আসছে ২০০ ব্রডগেজ রেলকোচ

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:42:44 pm, Monday, 20 July 2026
  • 9 Time View

ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ রেলকোচ বাংলাদেশে আসছে। আগামী আগস্টের শুরু থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে আসবে কোচগুলো। ২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ শাসনামলে ভারতের রেল বিভাগের অধীন রপ্তানি সংস্থা রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক সার্ভিসের (রাইটস) সঙ্গে ৯১৫ কোটি রুপির একটি চুক্তি করেছিল বাংলাদেশের সরকার।

এই প্রকল্পে বাংলাদেশকে অর্থ সহায়তা দিয়েছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথালা এলাকায় অবস্থিত রেল কারখানায় কোচ ও লোকোমোটিভগুলো তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কোচ তৈরির কাজ স্থগিত করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের মে মাস থেকে পুনরায় কাজ শুরু হয়। এর আগে এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি ব্রডগেজ এলএইচবি প্যাসেঞ্জার কোচ, ৩৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ পাঠানো হয়েছিল।

বাংলাদেশ থেকে নতুন এই ২০০ কোচ পাঠানোর ফরমায়েশকে রাইটসের উল্লেখ্যযোগ্য সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে রাইটসের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল মিথাল। তিনি আরও জানান, প্রথম চালান হিসেবে ২০টি কোচ শিগগিরই পাঠানো হবে বাংলাদেশে।

রাইটস লিমিটেড রেল মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান, যা পরিবহন পরিকাঠামোতে বিশেষজ্ঞ এবং রেল, মহাসড়ক, বিমানবন্দর ও নগর পরিবহনের জন্য পরিকল্পনা থেকে শুরু করে চালু করা পর্যন্ত পরিষেবা প্রদান করে। এটি বিশ্বব্যাপী ভারতীয় রেলের রোলিং স্টকের রপ্তানি শাখা হিসেবেও কাজ করে।

এদিকে বাংলাদেশের সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে যে, কলকাতা থেকে ঢাকা পর্যন্ত চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালু করার বিষয়ে সেপ্টেম্বরে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রেনটি যখন চালু ছিল, সে সময় পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত পেরিয়ে ৩৭৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৯ ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছাত। ২০০৮ সালে উদ্বোধনের পর থেকে ট্রেনটিতে যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকলেও, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এর চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল। ২০১৭ সালের এপ্রিলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথভাবে কলকাতা থেকে খুলনা পর্যন্ত দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস রুটের উদ্বোধন করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শিক্ষক-জনতা অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশিদের পর্যটন ভিসা প্রদান বন্ধ করে দিয়েছিল ভারত। গত মাসে এই ভিসা ফের চালু করা হয়েছে বলে গত মাসে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী। সূত্র : এনডিটিভি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

জোড়ালো হচ্ছে ইরানে স্থল হামলা চালানোর যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা

ভারত থেকে আসছে ২০০ ব্রডগেজ রেলকোচ

Update Time : 03:42:44 pm, Monday, 20 July 2026

ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ রেলকোচ বাংলাদেশে আসছে। আগামী আগস্টের শুরু থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে আসবে কোচগুলো। ২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ শাসনামলে ভারতের রেল বিভাগের অধীন রপ্তানি সংস্থা রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক সার্ভিসের (রাইটস) সঙ্গে ৯১৫ কোটি রুপির একটি চুক্তি করেছিল বাংলাদেশের সরকার।

এই প্রকল্পে বাংলাদেশকে অর্থ সহায়তা দিয়েছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথালা এলাকায় অবস্থিত রেল কারখানায় কোচ ও লোকোমোটিভগুলো তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কোচ তৈরির কাজ স্থগিত করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের মে মাস থেকে পুনরায় কাজ শুরু হয়। এর আগে এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি ব্রডগেজ এলএইচবি প্যাসেঞ্জার কোচ, ৩৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ পাঠানো হয়েছিল।

বাংলাদেশ থেকে নতুন এই ২০০ কোচ পাঠানোর ফরমায়েশকে রাইটসের উল্লেখ্যযোগ্য সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে রাইটসের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল মিথাল। তিনি আরও জানান, প্রথম চালান হিসেবে ২০টি কোচ শিগগিরই পাঠানো হবে বাংলাদেশে।

রাইটস লিমিটেড রেল মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান, যা পরিবহন পরিকাঠামোতে বিশেষজ্ঞ এবং রেল, মহাসড়ক, বিমানবন্দর ও নগর পরিবহনের জন্য পরিকল্পনা থেকে শুরু করে চালু করা পর্যন্ত পরিষেবা প্রদান করে। এটি বিশ্বব্যাপী ভারতীয় রেলের রোলিং স্টকের রপ্তানি শাখা হিসেবেও কাজ করে।

এদিকে বাংলাদেশের সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে যে, কলকাতা থেকে ঢাকা পর্যন্ত চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালু করার বিষয়ে সেপ্টেম্বরে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রেনটি যখন চালু ছিল, সে সময় পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত পেরিয়ে ৩৭৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৯ ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছাত। ২০০৮ সালে উদ্বোধনের পর থেকে ট্রেনটিতে যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকলেও, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এর চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল। ২০১৭ সালের এপ্রিলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথভাবে কলকাতা থেকে খুলনা পর্যন্ত দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস রুটের উদ্বোধন করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শিক্ষক-জনতা অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশিদের পর্যটন ভিসা প্রদান বন্ধ করে দিয়েছিল ভারত। গত মাসে এই ভিসা ফের চালু করা হয়েছে বলে গত মাসে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী। সূত্র : এনডিটিভি