মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

মৌলভীবাজারে এসএসসিতে পাসের হার ৫৫.৯২ শতাংশ 

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬ পঠিত: ১৯ বার
তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
এসএসসিতে মৌলভীবাজার জেলা পাসের হার ৫৫.৯২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭২৫ জন শিক্ষার্থী।
২০২৬-চলতি বছরের মাধ্যমিক ও সমমানের (এসএসসি) ফলাফলে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মৌলভীবাজার জেলায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫.৯২ শতাংশ। জেলাজুড়ে মোট ৭২৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করে নিজেদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। তবে জেলার সার্বিক ফলাফলের পাশাপাশি স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষা বিদধের মূল নজর এখন উপজেলা ভিত্তিক সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ এর চিত্রের দিকে।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুসারে, এ বছর মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলা থেকে মোট ১৯,৮৫৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১,১০৩ জন। পাসের হারের দিক থেকে কিছুটা মন্দাভাব দেখা গেলেও মেধার দিক থেকে পিছিয়ে নেই শিক্ষার্থীরা—জেলায় রেকর্ড ৭২৫টি জিপিএ-৫ তারই প্রমাণ দেয়।
প্রাথমিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যমতে, জেলার বিভিন্ন উপজেলার ফলাফলে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে:
সদর ও পৌর এলাকা: জেলা সদরের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যালয়গুলো বরাবরের মতোই জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে আধিপত্য বজায় রেখেছে। মেধার স্বাক্ষর রেখে সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ এসেছে সদর উপজেলার নামিদামি স্কুলগুলো থেকে।
শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ: চা বাগান ও সীমান্তবর্তী এলাকার উপজেলায় তুলনামূলকভাবে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও পাসের হারে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে চা-বাগান এলাকার শিক্ষার্থীদের একাংশের সাফল্য নজর কেড়েছে।
কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা: এ তিনটি উপজেলায় একাধিক প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাসের সাফল্য এসেছে। বিশেষ করে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে কুলাউড়া ও বড়লেখার বিদ্যালয় ভালো ফলাফল উপহার দিয়েছে।
রাজনগর: পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয় সূচকেই উপজেলার গ্রামীণ ও মফস্বল স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরা ভালো প্রতিযোগিতা দেখিয়েছে।
ফলাফল প্রকাশের পর থেকে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেতে ওঠে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে। কৃতী শিক্ষার্থীরা বাঁধভাঙা আনন্দে মেতে ওঠার পাশাপাশি তাদের এই সাফল্যের জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
তবে জেলার সার্বিক পাসের হার ৫৫.৯২% হওয়ায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদেরা। তাদের মতে, কোনো কোনো উপজেলায় ইংরেজি ও গণিতের মতো আবশ্যিক বিষয়ে খারাপ করায় সার্বিক পাসের হার কমে গেছে। উপজেলা পর্যায়ে পিছিয়ে পড়া বিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, যাতে আগামী বছর মৌলভীবাজার জেলায় বোর্ড সেরা তালিকার শীর্ষে ফিরতে পারে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *