জয়পুরহাটে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা: পাম্পের ম্যানেজারসহ আটক ৪
ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে চোর সন্দেহে মো. বাদশা (১৮) নামে এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাজেদুল ইসলাম (১৮) নামে আরও এক তরুণ গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত বাদশা ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের নলপুকুর গুচ্ছগ্রামের মো. জামালের ছেলে। আহত মাজেদুলও একই গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে।
এ ঘটনায় আটক চারজন হলেন, জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার রিয়াজপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে আজিমুল হক (৩৫), পাম্পের কর্মচারী লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানার উত্তর বানা গ্রামের আব্দুর সামাদ আলীর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম সজীব (৩১), ক্ষেতলাল থানার মহব্বতপুর গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৩০) এবং জয়পুরহাট সদর থানার বেলতলা গ্রামের আছির উদ্দিনের ছেলে মো. আমজাদ আলী (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে চুরি বা অবৈধভাবে প্রবেশের সন্দেহে বাদশা ও মাজেদুলকে আটক করা হয়। পরে তাদের একটি পোল্ট্রি খামারে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে দুজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ক্ষেতলালের মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকার সড়কের পাশে তাদের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে স্থানীয়রা তাদের দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাদশাকে মৃত এবং মাজেদুলকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে আহত মাইদুলকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া আহত মাজেদুল ইসলাম জানান, তারা চুরি করার বিষয়টি বারবার অস্বীকার করলেও তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং অপরাধ স্বীকার করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে ভোরে জ্ঞান ফিরলে পাশে বাদশার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাতজনকে আটক করেছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদে চারজনের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের ক্ষেতলাল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ডিবি সূত্র জানায়, আটক সাতজনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় বাকি তিনজনকে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানানো হবে।
