মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

মাদকসেবনের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যাচেষ্টায়, থানায় মামলা

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ পঠিত: ১৫ বার

নীলফামারী প্রতিনিধি:- মাদক সেবনের অভিযোগ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে নীলফামারীতে সাংবাদিককে হত্যাচেষ্টায় থানায় মামলা। অভিযোগ উঠেছে জেলা জজ আদালত চত্বরের একটি হোটেলে ঢুকে তাঁকে ঘেরাও করে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কাটার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। ভুক্তভোগী সাংবাদিক নীলফামারী জেলা জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার আইন বিষয়ক সম্পাদক ও দৈনিক বাংলাদেশ সময়ের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গত ২৩ আগস্ট “মাদক সেবন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নীলফামারী তোলপাড়” শিরোনামে একটি সংবাদ দৈনিক বাংলাদেশ সময় পত্রিকায় প্রকাশ হয়। প্রকাশিত সংবাদের জের ধরে ২৪ আগস্ট দুপুরে জেলা জজ আদালত চত্বরের একটি হোটেলে ঢুকে তাঁকে ঘেরাও করে এবং প্রকাশ্যে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধরসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কাটার চেষ্টা করে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা বার কাউন্সিলের আইনজীবী হোটেলে থাকা লোকজন সাংবাদিক লিটন সরকারকে উদ্ধার করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায়, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক লিটন সরকারের পক্ষে তাঁর স্ত্রী মোছা. মাতিনা আক্তার নীলফামারী সদর থানায় এজাহার দাখিল করেন। এজাহার পাওয়ার পর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী পৌরসভার বাড়াইপাড়া এলাকায় পুলিশের অভিযানে আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় না নিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে মোটরসাইকেল ও নগদ অর্থ নেওয়া বা বিক্রির অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান করেন সাংবাদিক লিটন সরকার। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে জাতীয় দৈনিক ‘বাংলাদেশ সময়’ ও ‘যমুনা সংবাদ’-এ এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করা হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের জেরে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে লিটন সরকার জেলা জজ আদালত চত্বরের সম্রাট হোসেন বাবুর হোটেলের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আফতাবুজ্জামান বিপ্লব, রিঙ্কু ও জহুরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জন লাঠি, লোহার রড, ধারালো খুর ও ছোরাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাঁকে চারদিক থেকে ঘেরাও করে অতর্কিত হামলা চালান। লাঠি ও লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাঁকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আফতাবুজ্জামান বিপ্লব ধারালো খুর দিয়ে তাঁর গলা কাটার চেষ্টা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

জীবন বাঁচাতে লিটন সরকার বাম হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করার চেষ্টা করলে ধারালো অস্ত্রটি তাঁর বাম বাহুতে লাগে। এতে গভীর কাটা জখম হয়ে রক্তপাত শুরু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে পড়ে চিৎকার করতে থাকেন। পরে তাঁর চিৎকার শুনে হোটেলের মালিকসহ উপস্থিত কয়েকজন ও আইনজীবীরা এগিয়ে এসে তাঁকে রক্ষা করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, উপস্থিত একাধিক আইনজীবী ও সাধারন ব্যক্তিদের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে উপস্থিত লোকজন আহত সাংবাদিককে ইজিবাইকে করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এজাহারে নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন—আফতাবুজ্জামান বিপ্লব (৪০), পিতা আলতাব হোসেন, সাং ঢেলাপির পুলপাড়া, সৈয়দপুর; রিঙ্কু, পিতা অজ্ঞাত, সাং সৈয়দপুর, পেশায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী; এবং জহুরুল ইসলাম (৪৮), পিতা মৃত রহিম বক্স, সাং বাড়াইপাড়া, নীলফামারী। তাঁদের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আয়ু এসআই বদিউজ্জামান বলেন, ‘আমি বর্তমানে বাইরে আছি। এ কারণে এজাহারের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানি না। অফিসে ফিরে বিষয়টি জেনে বিস্তারিত বলতে পারব।’

পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খাঁন বলেন,
‘এজাহার পাওয়ামাত্র মামলাটি আমলে নিয়ে রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। দ্রুতগতিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন পুলিশ সুপার।

তবে এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *