মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

হামলার জবাবে জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিলো ইরান

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬ পঠিত: ১৮ বার

ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর কড়া জবাব হিসেবে তীব্র পাল্টা আঘাতের দাবি করেছে তেহরান। দেশটি জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন ড্রোন (ড্রোন) ব্যবহার করে বড় ধরনের সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় কিং হুসেইন ও আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরের দিকে এই পাল্টা হামলা চালায়। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, নিখুঁত লক্ষ্যবস্তুতে চালানো হামলায় জর্ডানের ওই বিমানঘাঁটি দুটির কারিগরি ও মেকানিক্যাল অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং যুদ্ধবিমান শেডগুলোতে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

একই সঙ্গে আইআরজিসির পক্ষ থেকে পুনরায় হুংকার দিয়ে বলা হয়, আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেকোনো আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব আরও বেশি বিধ্বংসী ও তীব্র হবে।

এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের স্ট্র্যাটেজিক লারাক দ্বীপে অবস্থিত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে  হামলা চালায়। মার্কিন এক সামরিক কর্মকর্তার বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য প্রকাশ করে। জুলাইয়ের শেষ নাগাদ ঘটে যাওয়া সংঘাতের পর এটিই ছিল ইরানের মূল ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে চালানো প্রথম সরাসরি হামলা।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র-মাইন বহনকারী রকেট ছোড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই ওই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে আইআরজিসির তরফ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেই হামলায় বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হন, যা তেহরানকে অবিলম্বে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার দিকে ঠেলে দেয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা চরম মাত্রায় পৌঁছায়। যদিও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের প্রচেষ্টায় জুনে দুই পক্ষ একটি সাময়িক সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছিল, তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের বিবাদ কেন্দ্র করে জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্র আবারও পূর্ণমাত্রায় নৌ-অবরোধ ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *