মূল কন্টেন্টে যান
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

আসামী গ্রেফতার না হওয়া ক্ষোভে ফুঁসছেন কক্সবাজারের সাংবাদিকরা

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পঠিত: ২ বার

কক্সবাজার প্রতিনিধি:- কক্সবাজারের রামুতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের অপহরণ, জিম্মি করে মারধর ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে থানায় মামলা দায়েরের ১২ দিন পরও কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন কক্সবাজারের সাংবাদিকরা। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে জোরালো মানববন্ধন।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সাংবাদিককে ভয় দেখিয়ে, মারধর করে কিংবা জিম্মি করে সত্য প্রকাশের পথ বন্ধ করা যাবে না। সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হওয়ার পরও আসামিদের গ্রেফতার না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি হারুনর রশিদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি আবুল কাশেম, চ্যানেল এস-এর ব্যুরো প্রধান আয়াছ রনি, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কক্সবাজার জেলা সভাপতি খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি ইলি, আইন সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের কক্সবাজার জেলা সভাপতি মোস্তফা জামান চৌধুরীসহ সাংবাদিক নেতারা।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন শেষে ফেরার পথে হামলার অভিযোগ

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৭ আগস্ট বিকেলে রামুর খুনিয়াপালং এলাকায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ শেষে কক্সবাজারে ফেরার পথে টোঙ্গারঢেবা সড়কে তিন সাংবাদিকের গতিরোধ করা হয়। পরে তাদের জিম্মি করে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ ওঠে।

বক্তাদের দাবি, সাংবাদিকদের জিম্মি করে একটি মব তৈরি করা হয় এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এমনকি মৃত্যু ভয় দেখিয়ে ভিডিও ধারণের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে স্বীকারোক্তি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি হারুনর রশিদ ও স্থানীয় দৈনিক আপন কণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার মো. রমজান আলীর পক্ষে জাতীয় দৈনিক ঘোষণার কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা দায়ের করেন।

১২ দিনেও গ্রেফতার না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ

মামলা দায়েরের পর অনেক দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, সাংবাদিকদের ওপর এমন গুরুতর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগের পরও কেন আসামিরা গ্রেফতার হচ্ছেন না?

তারা বলেন, “সাংবাদিকের ওপর হামলা করে কেউ পার পেয়ে গেলে আগামী দিনে মাঠপর্যায়ে কাজ করা সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা কোথায় থাকবে?

বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে। ঘটনার প্রায় ১২ দিন পর তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত ও সাংবাদিকদের হয়রানি করতেই পাল্টা মামলা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

‘কলম থামবে না’

মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা বলেন, “হুমকি দিয়ে কলম থামানো যাবে না, হামলা করে ক্যামেরা বন্ধ করা যাবে না, মামলা দিয়ে সত্য অনুসন্ধান থেকে সাংবাদিকদের সরানো যাবে না।

তারা বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা গণতন্ত্র ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার। সাংবাদিকরা মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরেন। এ কাজ করতে গিয়ে কোনো সংবাদকর্মী অপহরণ, নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৯ আসামির গ্রেফতার দাবি

মানববন্ধন থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত খুনিয়াপালং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদ, নুরুল আমিন নুরুসহ ৯ আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, “অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই বিবেচ্য হতে হবে। কেউ প্রভাবশালী হলেই আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারেন না।

তারা অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

মানববন্ধনের শেষ পর্যায়ে সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “মামলা হয়েছে, অনেক দিন পেরিয়ে গেছে—এখন আর কালক্ষেপণ নয়। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় কক্সবাজারের সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক সংস্থার কক্সবাজার জেলা সভাপতি জাফরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হিরু, দৈনিক গণসংযোগের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জায়েদ হাসান, উখিয়া সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিকদার, জে এ টিভির উখিয়া উপজেলা প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন, মর্নিং পোস্টের উখিয়া উপজেলা প্রতিনিধি ছৈয়দুল আলম, নিউজ ২১-এর স্টাফ রিপোর্টার এনামুল শেখ, আইন সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের কক্সবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, জাতীয় দৈনিক জবাবদিহির কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম আজাদ, দৈনিক কক্সবাজার সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার মো. মোরশেদ, জাতীয় দৈনিক আজকের খবরের জেলা প্রতিনিধি এসএমডি মনির, সাংবাদিক নাছির উদ্দীনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।

সাংবাদিক নেতাদের একটাই দাবি সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় কোনো ছাড় নয়, দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *