মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

দারিদ্রতার মধ্যেও স্বপ্নপূরণে হতে চায় প্রকৌশলী 

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬ পঠিত: ১৫ বার
‎সোহেল রানা বাবু ,‎বাগেরহাট প্রতিনিধি       
‎বাগেরহাটে বাবা মা হারানো অদম্য মেধাবী অরিত্র সরকার এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। চরম দারিদ্রতার মধ্যেও পরোপারে পাড়ি জমানো বাবা মায়ের স্বপ্নপূরণে প্রবল ইচ্ছাশক্তি জোরেই এবার বাগেরহাট শহরের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অরিত্র সরকার জিপিএ-৫ পেয়েছে। দারিদ্রতার কারনে কোন রকম প্রাইভেট বা কোচিং ছাড়াই ভালো ভলাফল করা করা অরিত্র মৃত বাবা মায়ের স্বপ্নপূরণ করতে ভবিষ্যতে সে প্রকৌশলী হতে চায়। অরিত্রের স্বপ্নপুরণে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিবেশি, শিক্ষক ও স্বজনদের।
‎অরিত্র সরকার জানান, বাগেরহাট শহরের শালতলা এলাকার টিনশেডের একটি ছোট ঘরে অরিত্র সরকারের বসবাস। দুই ভাই তারা। অরিত্র ছোট। বাড়ির সামনে অরিত্রের বাবা উৎপল সরকার টোলকুর একটি চা ও পান বিক্রির দোকান ছিল। ওই দোকানের আয় দিয়ে চলছিল আমাদের ছোট্ট সংসার। ২০২২ সালে হঠাৎ বাবা টোলকু’র মৃত্যুতে সব এলোমেলো হয়ে যায়। এর দুই বছর পর ২৪ সালে বড় ভাইয়ের এসএসসি পরীক্ষা চলা অবস্থায় মা নমিতা সরকারও তাদের ছেড়ে পরপারে চলে যান। চার বছরের মধ্যে বাবা মাকে হারিয়ে দুই ভাই পিতৃমাতৃ হারা হয়ে পড়ে। অভাব অনটনের মধ্যে তাদের লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কিন্তু তারা দুই ভাই হাল ছাড়েনি। আত্মীয় স্বজন ও নিজেদের উপার্জনে চালিয়ে গেছে পড়া লেখা। বাবার রেখে যাওয়া দোকানটি অর্থ সংকটে ভাড়া দিতে না পারায় বন্ধ করে দেয়। লেখাপড়া চালাতে অরিত্র প্রাইভেট পড়ানো শুরু করে। এসএসসি পরীক্ষা সামনে আসতেই শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো বাদ দিয়ে পড়ালেখায় মনেযোগি হয় সে। দারিদ্রতার কারনে কোন রকম প্রাইভেট বা কোচিং ছাড়ই বাসায় বসে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা পড়াশুনা করে শহরের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষাটা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রাইভেট বা কোচিং করলে আরো ভালো ফলাফল গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেতো বলে জানায় অরিত্র। অরিত্র বলে আমার লেখাপড়ায় সহযোগিতা পেয়েছি বড় ভাই, আত্মীয় ও শিক্ষকদের কাছ থেকে। মা বাবার স্বপ্ন ছিল আমাকে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। এই পড়ালেখা চালিয়ে নিতে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে হবে। আত্মীয় স্বজনরা অনেক সহযোগিতা করছে। এখন পড়া চালিয়ে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। তাই সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে আমার স্বপ্নটাপুরণ করতে পারব।
‎অরিত্রের বড় ভাই অর্ণব সরকার জানান, ছোট ভাইয়ের এই সাফল্যে অনেক খুশি হলেও শোকে আটকে যাই। আমার এসএসসি পরীক্ষা চলা অবস্থায় মা মারা যান। মায়ের মৃত্যর মধ্যে পরীক্ষা চালিয়ে যাই। এবছর আমি উচ্চ মাধ্যমিক দিয়েছি। আমার বাবা মার স্বপ্ন ছিল ছোট ভাই প্রকৌশলী হবে। তাই ওর লেখাপড়া চালিয়ে নিতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চাই। সবাই সহযোগিতা করলে আমার বাবা মার স্বপ্নপুরণ হতে পারে।
‎প্রতিবেশি গোপাল সাহা জানান, বাবা মা হারা অরিত্র সরকার কোন রকম প্রাইভেট বা কোচিং ছাড়াই অভূতপূর্ব ফলাফল করেছে। এতে আমরা দারুন খুশি। বাবা মা হারা অরিত্রর মতো দরিদ্র এই মেধাবীর পড়ালেখা যাতে বন্ধ না হয়, সেজন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *