রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পারিবারিক সম্পত্তির লোভে ব্যবসায়ী ভাইকে হত্যার ঘটনায় আপন ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩ জন
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পৌরজামতলা বাজার সংলগ্ম হাউলিকেউটিল এলাকার নিজ বাড়িতে ব্যবসায়ী ফারুক শেখকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আপন ভাইসহ দোকানের দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাদেরকে রোববার বিকেলে জবানবন্দি গ্রহণের জন্য রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার (২৩ আগষ্ট) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মো. সামসুল হক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা তুলে ধরেন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার (২২ আগষ্ট) বেলা দুইটার দিকে গোয়ালন্দ পৌর জামতলা বাজার সংলগ্ন হাউলিকেউটিল গ্রামের নিজ বাড়িতে হত্যাকা- ঘটে। নিহত ব্যবসায়ী ফারুক শেখ (৪৬) স্থানীয় খালেক শেখের ছেলে। খবর পেয়ে বেলা তিনটার দিকে গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে। ফরিদপুর থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। বিভিন্ন তথ্য, উপাত্তের ভিত্তিতে পুলিশ রাতেই প্রথমে ফারুকের ভাই বারেকসহ তাদের দোকানের দুই কর্মচারীকে আটক এবং আলামত হিসেবে অস্ত্র দুটি উদ্ধার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো বারেক শেখ (৪০), দোকানের কর্মচারী উপজেলার দৌলতদিয়া হোসেন মোল্লা পাড়ার ওয়াজেদ সরদারের ছেলে আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (২৬) ও একই গ্রামের বাবু শেখের ছেলে রুবেল শেখ (৩০)। শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে নিজ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে শনিবার রাতে নিহত ফারুকের বাবা খালেক শেখ বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, প্রকাশ্য দিনের বেলায় এমন হত্যাকান্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভাবিয়ে তুলে। শনিবার রাতে সন্দেহভাজন হিসেবে ফারুকের ছোট ভাই বারেক শেখকে (৪৪) পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন- পারিবারিক সম্পত্তি, সংসারবিরাগী, বহুনারীতে আসক্ত হওয়াসহ জীবদ্দশায় মায়ের সাখে খারাপ আচরণ করায় ক্ষুদ্ধ হন। এসব কারনে কয়েক মাস আগে সদর উপজেলার খানখানাপুর থেকে দুটি বড় ধারালো দা কিনেন। শুক্রবার রাতে দৌলতদিয়া রেলষ্টেশনে ফারুককে খুন করতে চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন বারেক ও তার দুই কর্মচারী। এ সময় কর্মচারীদের সাময়িক খরচ বাবদ ১৭০০ টাকা দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার দুপুর একটার দিকে তাদের নিয়ে বাড়িতে ঢুকে বারেক ধারালো দা দুটি হাতে দিয়ে তিনি রাস্তায় পাহারা দেুন। পরে ঘুমন্ত ফারুকের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ও দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যার পর ঘরের পাশে পরিত্যাক্ত শৌচাগারের পাশে ময়লার স্তুপের ভিতর অস্ত্র দুটি রেখে রুবেল ও আলম বাড়ি থেকে বের হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হক বলেন, আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সেখানে তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণে তারা আদালত কক্ষে রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম সহ পুলিশের উর্দ্বোতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
