মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

যশোরে মাকে গলা কেটে হত্যা, ঘাতক শিক্ষক ছেলে গ্রেপ্তার

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ পঠিত: ১২ বার

শহিদ জয়,যশোর

যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে মাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার অভিযোগে স্কুলশিক্ষক ছেলে মামুনুর রশিদকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৭ ঘণ্টার মধ্যে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার তেঘরিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মামুনুর রশিদ ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানি এন.এম. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক। তিনি বাজে দুর্গাপুর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেনের ছেলে। নিহত আনোয়ারা খাতুন (৫৫) তার মা।

পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে মামুনুর রশিদ যশোর শহর থেকে বাজে দুর্গাপুরে নিজ বাড়িতে যান। বাড়িতে গিয়ে তিনি মায়ের কাছে গোসলের গামছা চান। এ সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে মামুনুর রশিদ পাশে থাকা ধারালো বটি দিয়ে মায়ের পিঠে সজোরে কোপ দেন। এতে আনোয়ারা খাতুন মাটিতে পড়ে গেলে তাকে মুখমণ্ডল, মাথা, পিঠ ও বাম হাতে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। পরে ওই বটি দিয়ে গলা কেটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে পিবিআই জানিয়েছে।

ঘটনার পর পিবিআই যশোরের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামুনুর রশিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পিবিআইয়ের একটি দল অভিযান চালিয়ে তেঘরিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে এসআই রতন মিয়া ও এসআই মো. বাবুল ইসলামসহ পিবিআইয়ের অন্যান্য চৌকস সদস্যরা অংশ নেন।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো.কামরুজ্জামান জানান ,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুর রশিদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দুটি বিয়ে হয়েছিল। পারিবারিক বনিবনা না হওয়ায় দুই স্ত্রীই তাকে ছেড়ে চলে যান। স্ত্রীদের চলে যাওয়ার জন্য তিনি তার মা আনোয়ারা খাতুনকে দায়ী মনে করতেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিনও দুই স্ত্রী চলে যাওয়ার বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি মায়ের ওপর বটি দিয়ে হামলা চালান এবং পরে গলা কেটে হত্যা করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর মামুনুর রশিদ মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান বলে জানিয়েছে পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের ১৭ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তার মামুনুর রশিদকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *