জানা গেছে, এদিন সকাল ৭টা থেকে নিজেকে মাহবুবের স্ত্রী দাবি করা আন্নি নামে এক নারী দুই ঘণ্টাব্যাপী ডাকাডাকির পরও দরজা খুলছিলেন না। পরে ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এর পর ফায়ার সার্ভিসকেও খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম ও ভেতরে থাকা নারীকে বের করে নিয়ে আসেন।
সানজিদা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে মাহবুব আলম দাবি করেন, সানজিদা তার স্ত্রী। তবে দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি।এদিকে, ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে মাহবুবের দাবি, আন্নিকে চার দিন আগে তিনি তালাক দিয়েছেন।নওগাঁর বাসিন্দা আন্নি আক্তার একজন নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলম তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে।আন্নি জানান, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও সেখানে সানজিদা মৌকে মাহবুবের সঙ্গে দুদিন পেয়েছিলেন তিনি। তখন সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ করেননি। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব তার কথিত পালিত মেয়ের ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে গেছেন। সেখানে সানজিদা মৌও রয়েছেন। খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে তিনি ওই ফ্ল্যাটে যান। দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।তিনি আরো জানান, পরে চন্দ্রিমা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে ভেতরে মাহবুব আলম রয়েছেন জানতে পেরে পুলিশ দরজা ভাঙেনি। পরে তিনি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে দেন। এর মধ্যে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় মাহবুব ও সানজিদা ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে ছিলেন। পুলিশ ফোন করে দরজা খুলতে বললেও মাহবুব দরজা খোলেননি। দরজা খোলার পর মাহবুব আলম সানজিদাকে তার স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। পরে পুলিশ দুজনকে থানায় নিয়ে যায়।থানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের মাহবুব আলম জানান, আন্নিকে তিনি তালাক দিয়েছেন। পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজও জমা দিয়েছেন। তবে সানজিদার সঙ্গে বিয়ের কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চার দিন আগে আন্নিকে তালাক দেওয়ার একটি কাগজ মাহবুব আলম দিয়েছেন। তবে আন্নি জানিয়েছেন, তিনি তালাকের কোনো কাগজ হাতে পাননি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানান তিনি।
চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌয়ের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসবেন। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, তিনি কিছুক্ষণ আগে ঘটনাটি জেনেছেন। মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশাহীতে যাননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ। মাহবুব আলম ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।