এ জেড আল মুজাহিদ কিশোরগঞ্জ:- সামান্য বৃষ্টি হলেই চাল ভেদ করে গড়িয়ে পড়ে পানি, ভিজে যায় বই-খাতা। এর মধ্যেই ঝুঁকি আর ভোগান্তি মাথায় নিয়ে চলছে ক্লাস। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া পশ্চিম পাড়া আব্দুল মন্নাফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত এমনই দুরবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
১৯৯৮ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মন্নাফ-এর দেওয়া জমিতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি এটি সরকারীকরণ করা হয়। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে মোট ১৫১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
বিদ্যালয়ের একমাত্র জরাজীর্ণ টিনসেট ভবনটির দৈর্ঘ্য ৫৪ ফুট এবং প্রস্থ ২৩ ফুট। অফিস কক্ষসহ মাত্র ৪টি কক্ষ থাকায় শিক্ষার্থীদের চরম গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে। বর্ষার দিনে চাল দিয়ে পানি পড়ায় একদিকে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষকদের স্বাভাবিক পাঠদান পরিচালনা করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
উপজেলার ১১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে যে ৩টি বিদ্যালয়ে এখনো টিনসেট ভবনে পাঠদান চলছে, তার মধ্যে এই বিদ্যালয়টি অন্যতম। বাকি দুটি বিদ্যালয় হলো—বাজিতপুর পৌর শহরের গোলক চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিরারবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা: মাহবুবা সুলতানা জানান, নতুন ভবনের নির্মাণের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে প্রথমবার এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালে আবারও মাটি পরীক্ষা করা হয়। তবে এখনো ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি।
এ প্রসঙ্গে বাজিতপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি দ্রুত বিদ্যালয়টির বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
Reporter Name 














