রাজবাড়ীতে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে সিপিবি’র বিক্ষোভ সমাবেশ

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:09:48 pm, Wednesday, 22 July 2026
  • 8 Time View
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীতে বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে রাজবাড়ী রেলগেট শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক চত্ত্বরে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) রাজবাড়ী জেলা কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশবিরোধী অবৈধ বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, চট্টগ্রাম বন্ধর ইজারা দেওয়া বন্ধ করা, বাজেটে জনসাধারণের উপর কর ঋণের বোঝা বৃদ্ধি, রাষ্ট্রয়াত্ত ৪৪টি শিল্প কারখানা ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর, জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গনে মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ও সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) রাজবাড়ী জেলা কমিডিটর সভাপতি কমরেড আব্দুস ছামাদ মিয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ধীরেন্দ্রনাথ দাস। জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য এজাজ আহম্মেদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জাতীয় গণফন্ট্র রাজবাড়ী জেলা কমিটির সমন্বয়ক কমরেড মো. ছমির উদ্দিন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ রাজবাড়ী জেলা কমিটির সম্পাদক কমরেড সুশান্ত কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড স্বপন কুমার দাস, রাজবাড়ী জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার মন্ডল, সিপিবি নেতা কমরেড এস এম দাউদ খান। সমাবেশ কাস্তে হাতুড়ি সম্বলিত লাল পতাকা প্রদর্শণ করা হয়।
বক্তারা বলেন, অন্তবর্তী সরকার নির্বাচনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবৈধ বাণিজ্য চুক্তি করেছে। এই বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে একতরফা সুবিধা ও একক কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশকে আগামী ১৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি দামে কমপক্ষে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার মূল্যের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে হবে। প্রয়োজন না হলেও টনপ্রতি ৩৫ ডলার বেশি দিয়ে তাকে আগামী পাঁচ বছর ধরে ৭ লাখ টন গম ক্রয় করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি দামে ২৬ লাখ টন সয়াবিন ও সয়াবিনজাত পণ্য তাকে কিনতে হবে, যার মূল্য দাঁড়াবে ১২৫ কোটি ডলার।
এই চুক্তির আওতায় তুলা, ফলমূল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য কেনার জন্য বাংলাদেশকে ব্যয় করতে হবে ৩৫০ কোটি ডলার। একেবারেই বিনা দরপত্রে ৩৫ হাজার কোটি টাকায় ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে হবে। সামরিক সরঞ্জাম কেনা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্র ৬ হাজার ৭১০টি পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কছাড় সুবিধা পাবে, কিন্তু এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ সুবিধা পাবে মাত্র ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্যে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঐ সব অধিকাংশ পণ্য রফতানির সুযোগ নেই। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মার্কিন বাণিজ্য স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এরূপ কোনো দেশের সাথে, অর্থাৎ চীন, রাশিয়া ইত্যাদি দেশের সাথে বাংলাদেশ কোনো বাণিজ্য চুক্তি করতে পারবে না। এই শর্ত দ্বারা সরাসরি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। যেমন, সম্প্রতি জরুরি প্রয়োজনে রাশিয়ার ক্ষেত্রে জ্বালানি কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। যে চুক্তি স্বাংলাদেশের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার হরণ করে তা যে আপাদমস্তক ‘অধীনতামূলক’ গোলামী চুক্তি, তা নিয়ে কোন সন্দেহ থাকতে পারে না।
এই চুক্তিটি দেশ বিরোধী। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোলামে পরিণত হবে। আমাদের দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। এই চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ইজারা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সারাদেশে গণ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

জোড়ালো হচ্ছে ইরানে স্থল হামলা চালানোর যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা

রাজবাড়ীতে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে সিপিবি’র বিক্ষোভ সমাবেশ

Update Time : 09:09:48 pm, Wednesday, 22 July 2026
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীতে বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে রাজবাড়ী রেলগেট শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক চত্ত্বরে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) রাজবাড়ী জেলা কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশবিরোধী অবৈধ বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, চট্টগ্রাম বন্ধর ইজারা দেওয়া বন্ধ করা, বাজেটে জনসাধারণের উপর কর ঋণের বোঝা বৃদ্ধি, রাষ্ট্রয়াত্ত ৪৪টি শিল্প কারখানা ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর, জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গনে মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ও সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) রাজবাড়ী জেলা কমিডিটর সভাপতি কমরেড আব্দুস ছামাদ মিয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ধীরেন্দ্রনাথ দাস। জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য এজাজ আহম্মেদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জাতীয় গণফন্ট্র রাজবাড়ী জেলা কমিটির সমন্বয়ক কমরেড মো. ছমির উদ্দিন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ রাজবাড়ী জেলা কমিটির সম্পাদক কমরেড সুশান্ত কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড স্বপন কুমার দাস, রাজবাড়ী জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার মন্ডল, সিপিবি নেতা কমরেড এস এম দাউদ খান। সমাবেশ কাস্তে হাতুড়ি সম্বলিত লাল পতাকা প্রদর্শণ করা হয়।
বক্তারা বলেন, অন্তবর্তী সরকার নির্বাচনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবৈধ বাণিজ্য চুক্তি করেছে। এই বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে একতরফা সুবিধা ও একক কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশকে আগামী ১৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি দামে কমপক্ষে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার মূল্যের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে হবে। প্রয়োজন না হলেও টনপ্রতি ৩৫ ডলার বেশি দিয়ে তাকে আগামী পাঁচ বছর ধরে ৭ লাখ টন গম ক্রয় করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি দামে ২৬ লাখ টন সয়াবিন ও সয়াবিনজাত পণ্য তাকে কিনতে হবে, যার মূল্য দাঁড়াবে ১২৫ কোটি ডলার।
এই চুক্তির আওতায় তুলা, ফলমূল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য কেনার জন্য বাংলাদেশকে ব্যয় করতে হবে ৩৫০ কোটি ডলার। একেবারেই বিনা দরপত্রে ৩৫ হাজার কোটি টাকায় ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে হবে। সামরিক সরঞ্জাম কেনা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্র ৬ হাজার ৭১০টি পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কছাড় সুবিধা পাবে, কিন্তু এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ সুবিধা পাবে মাত্র ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্যে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঐ সব অধিকাংশ পণ্য রফতানির সুযোগ নেই। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মার্কিন বাণিজ্য স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এরূপ কোনো দেশের সাথে, অর্থাৎ চীন, রাশিয়া ইত্যাদি দেশের সাথে বাংলাদেশ কোনো বাণিজ্য চুক্তি করতে পারবে না। এই শর্ত দ্বারা সরাসরি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। যেমন, সম্প্রতি জরুরি প্রয়োজনে রাশিয়ার ক্ষেত্রে জ্বালানি কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। যে চুক্তি স্বাংলাদেশের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার হরণ করে তা যে আপাদমস্তক ‘অধীনতামূলক’ গোলামী চুক্তি, তা নিয়ে কোন সন্দেহ থাকতে পারে না।
এই চুক্তিটি দেশ বিরোধী। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোলামে পরিণত হবে। আমাদের দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। এই চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ইজারা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সারাদেশে গণ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।