মেধাবী ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:55:56 am, Monday, 27 July 2026
  • 8 Time View
সুস্থ, মেধাবী, সুশৃঙ্খল ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলাকে বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বিত বিকাশই বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির ভিত্তি।
এ কারণে সরকার ক্রীড়াকে শুধু শরীরচর্চা, বিনোদন বা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে নয়, পেশা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা লেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ, উদ্যমী ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। সরকার ক্রীড়াকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে।
এ লক্ষ্যে তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।তিনি জানান, গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়। এরপর সারা দেশে আটটি ইভেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজনের প্রথম আসরের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের এ আয়োজন একটি কার্যকর ও টেকসই ভিত্তি রচনা করবে।

দেশের ক্রীড়া বিকাশে এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তিনি শুভেচ্ছা জানান।তিনি আরো বলেন, আজকের শিশু-কিশোর তারুণ্যই আগামীর বাংলাদেশ। তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। ক্রীড়া মানুষকে শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায়, নেতৃত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহিষ্ণুতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।

এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, পরিচর্যা ও বিকাশের একটি কার্যকর জাতীয় কাঠামো গড়ে উঠছে। তার বিশ্বাস, এ কর্মসূচি ভবিষ্যতের জাতীয় দল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ক্রীড়াবিদ তৈরির একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।তারেক রহমান বলেন, সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হলো দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলা। সে লক্ষ্যেই প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমন একটি ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি, যেখানে প্রতিভা, পরিশ্রম ও যোগ্যতাই হবে সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘নতুন কুঁড়ি’কে আরো সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত করতে আগামী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ আসরে টেবিল টেনিস ও ভলিবল যুক্ত করা হবে। এতে ইভেন্টের সংখ্যা বেড়ে ১০ হবে। একই সঙ্গে অধিকসংখ্যক প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা ১২-১৪ বছর থেকে সম্প্রসারণ করে ১০-১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র এই খুদে খেলোয়াড়রাই একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে গৌরবের সঙ্গে বহন করবে এবং দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে। পাশাপাশি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদাকে আরো সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।

পোস্টের শেষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর প্রথম আসরে অংশগ্রহণকারী সব খুদে ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, বিচারক, আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক এবং এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

জোড়ালো হচ্ছে ইরানে স্থল হামলা চালানোর যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা

মেধাবী ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : 10:55:56 am, Monday, 27 July 2026
সুস্থ, মেধাবী, সুশৃঙ্খল ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলাকে বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বিত বিকাশই বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির ভিত্তি।
এ কারণে সরকার ক্রীড়াকে শুধু শরীরচর্চা, বিনোদন বা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে নয়, পেশা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা লেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ, উদ্যমী ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। সরকার ক্রীড়াকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে।
এ লক্ষ্যে তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।তিনি জানান, গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়। এরপর সারা দেশে আটটি ইভেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজনের প্রথম আসরের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের এ আয়োজন একটি কার্যকর ও টেকসই ভিত্তি রচনা করবে।

দেশের ক্রীড়া বিকাশে এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তিনি শুভেচ্ছা জানান।তিনি আরো বলেন, আজকের শিশু-কিশোর তারুণ্যই আগামীর বাংলাদেশ। তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। ক্রীড়া মানুষকে শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায়, নেতৃত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহিষ্ণুতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।

এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, পরিচর্যা ও বিকাশের একটি কার্যকর জাতীয় কাঠামো গড়ে উঠছে। তার বিশ্বাস, এ কর্মসূচি ভবিষ্যতের জাতীয় দল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ক্রীড়াবিদ তৈরির একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।তারেক রহমান বলেন, সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হলো দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলা। সে লক্ষ্যেই প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমন একটি ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি, যেখানে প্রতিভা, পরিশ্রম ও যোগ্যতাই হবে সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘নতুন কুঁড়ি’কে আরো সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত করতে আগামী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ আসরে টেবিল টেনিস ও ভলিবল যুক্ত করা হবে। এতে ইভেন্টের সংখ্যা বেড়ে ১০ হবে। একই সঙ্গে অধিকসংখ্যক প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা ১২-১৪ বছর থেকে সম্প্রসারণ করে ১০-১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র এই খুদে খেলোয়াড়রাই একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে গৌরবের সঙ্গে বহন করবে এবং দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে। পাশাপাশি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদাকে আরো সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।

পোস্টের শেষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর প্রথম আসরে অংশগ্রহণকারী সব খুদে ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, বিচারক, আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক এবং এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।