রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীতে তেলবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন বগির ধাক্কায় একটি বাস, ইজিবাইক ও মাহিন্দ্রা দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এ সময় দুজন নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন পাঁচজন।
রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে খানখানাপুর রেলগেইট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ জানান।
নিহতরা হলেন- বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের মঈনুদ্দিন শেখের ছেলে মালেক শেখ এবং সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারি। তারা মাহেন্দ্র যাত্রী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী জামাল মোল্লা বলেন, রাজবাড়ীগামী একটি তেলবাহী ট্রেন খানখানাপুর রেলগেইট অতিক্রম করছিল। ট্রেনটি রেলগেইট পার হওয়ার আগেই পেছনের পাঁচটি বগি মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে ইঞ্জিন ও সামনের অংশ রেলগেইট অতিক্রম করে।
তিনি বলেন, “তখন গেইটম্যান রেললাইন ফাঁকা মনে করে প্রতিবন্ধক তুলে দেন। এ সময় একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ইজিবাইক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। তখন বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা বগিগুলো এ তিনটি যানকে ধাক্কা দেয়। এতে মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইক দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসটি ধাক্কা খেয়ে রেললাইনের পাশে চলে যায়।”
শরিফুল হোসেন বলেন, “আমি বাসের যাত্রী ছিলাম। বাসটি ফরিদপুর থেকে দৌলতদিয়ায় যাচ্ছিল। খানখানাপুর পৌঁছালে একটি তেলবাহী ট্রেন যায়। সে সময় গেইটম্যান প্রতিবন্ধক নামিয়ে দেন। ট্রেন যাওয়ার পরে গেইটম্যান আবার প্রতিবন্ধক তুলে দেন। তখন বাসটি রেলগেইট পার হওয়ার চেষ্টা করলে ট্রেনের কয়েকটি বগির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পাশে চলে যায়। আমরা বাসে ঝুলেছিলাম। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।”
বাদশা খান বলেন, “বগির সঙ্গে লেগে মাহেন্দ্রটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে চলে যায়। এতে ইজিবাইক ও মাহেন্দ্রটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। মাহেন্দ্রর ভেতরে চালক আটকা পড়েন, পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করেন। মাহেন্দ্র চালকসহ সাতজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।”
আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ওসি মাকসুদুর রহমান মুরাদ বলেন, “খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। গুরুতর আহত সাতজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পর পরই একজন মারা যান। কিছু পরে আরও একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।”
তিনি বলেন, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে। রেকার দিয়ে বাসটি সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে।
Reporter Name 














