মূল কন্টেন্টে যান
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
সর্বশেষ

যশোরে বৃদ্ধ বাবা-মাকে বাড়িছাড়া করার অভিযোগ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পঠিত: ১ বার

যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে পাঁচ লাখ টাকা ও দুই বিঘা জমি না দেওয়ায় বৃদ্ধ বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বৃদ্ধ দম্পতি, তাঁদের ভাই-ভাতিজি ও মামাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি এবং আশ্রয়স্থলে বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্বজনরা।

ভুক্তভোগী বৃদ্ধ আতর আলী ও তাঁর স্ত্রী খয়েরি বেগম বর্তমানে আশ্রয় নিয়েছেন অন্যের জমিতে তৈরি একটি কুঁড়েঘরে। তাঁদের অভিযোগ, ছেলে জামাত আলী ও তাঁর স্ত্রী সেলিনা জামাত পাঁচ লাখ টাকা ও দুই বিঘা জমি দাবি করেন। ওই টাকা ও জমি দিতে না পারায় তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

আতর আলীর ছোট ভাই জানান, বড় ভাইকে আশ্রয় দেওয়ার পর তাঁর ও তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ ও মামলা করা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি থেকে আতর আলী ও তাঁর স্ত্রীকে বের করে দেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পথে-ঘাটে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

স্থানীয় মনছের আলী বলেন, একদিন তিনি দেখতে পান আতর আলী তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে কুঁড়েঘর তৈরি করে বসবাস করছেন। তিনি তাঁদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা বললে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদ্যুৎ দিলে ধর্ষণ মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তাঁরা বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে ভয় পাচ্ছেন।

এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় আতর আলীর শ্যালক তাইজেল ইসলামের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাইজেল ইসলাম বলেন, আতর আলীর ছেলে বিদেশে থাকার সময় তাঁর স্ত্রী বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে তাঁরা ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য তিনি ভাগ্নে জামাত আলীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এর দুই দিন পর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার কয়েকজন সাক্ষীও অভিযোগ করেছেন, পারিবারিক বিরোধের বিষয়ে তাঁদের না জানিয়ে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। ডাকাতিয়া গ্রামের মিন্টু বলেন, জামাত আলী ও তাঁর স্ত্রী তাঁদের কাছে গিয়ে একটি মামলায় সাক্ষী হওয়ার কথা বলেন। মামলার বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে পরে গ্রামের মানুষ বসে বিষয়টি মীমাংসা করবে বলে জানানো হয়।

একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁকেও একইভাবে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। পারিবারিক ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না এবং এ বিষয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি নন।

আতর আলীর স্ত্রী খয়েরি বেগম বলেন, তাঁদের ছেলে ও ছেলের বউ তাঁদের ভরণপোষণ করেন না। পাঁচ লাখ টাকা ও দুই বিঘা জমি দাবি করা হচ্ছে। দাবি পূরণ না করায় তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে মামলা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা অন্যের জমিতে বসবাস করছেন।

বৃদ্ধ আতর আলী বলেন, তিনি নিজে চলাফেরা করতে পারেন না। বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর বিষয়টি শ্যালক ও ভাইদের জানালে তাঁদের বিরুদ্ধেও একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জামাত আলী ও তাঁর স্ত্রী সেলিনা জামাতের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বৃদ্ধ আতর আলী ও তাঁর স্ত্রী খয়েরি বেগম এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *