মেসির সেই ভয়ের স্মৃতি ফিরবে ৯ জুন!

  • Reporter Name
  • Update Time : 04:22:06 pm, Friday, 10 April 2026
  • 24 Time View

মেসির সামনে আবারও সেই আইসল্যান্ড—রাশিয়া বিশ্বকাপের যে ম্যাচে পেনাল্টি মিস করে লকার রুমে বিষণ্নতা নামিয়ে এনেছিলেন! এবার অবশ্য প্রতিযোগিতামূলক নয়—বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা; যার একটি আইসল্যান্ডের বিপক্ষে, আরেক প্রতিপক্ষ হন্ডুরাস।

৯ জুন অ্যালাবামার অবার্নের জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ম্যাচের আগে মেসি ফিরে গিয়েছিলেন ২০১৮ সালের পুরোনো স্মৃতিতে। জানালেন সেই পেনাল্টি শট নেওয়ার সময় নিজের মাঝে কী কাজ করছিল। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ দলের সতীর্থ নাহুয়েল গুজম্যানের কাছে সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি জানিয়েছেন, শট নেওয়ার আগে তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন!

‘রাশিয়ায় বিশ্বকাপ শুরুর আগে আমি অনুশীলন মাঠে পাতনের (নাহুয়েল গুজম্যানের) বিপক্ষে অন্তত ৩ লাখ পেনাল্টি নিয়েছিলাম। আমি তাকে বলতাম—‘প্রস্তুত হও পাতা, দেখো বল ওই দিকেই যাবে।’ আমি তখন সবসময় পা প্রসারিত করেই শট নিতাম এবং সেগুলো ওপরের কোনা দিয়ে যেত। সে একটা বলও ধরতে পারত না। কিন্তু আইসল্যান্ডের বিপক্ষে যখন পেনাল্টি নিতে গেলাম, আমি জোরে শট নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আমি ভয় পেয়ে যাই এবং পা পুরোপুরি প্রসারিত না করেই শট নিয়ে ফেলি’—বলছিলেন মেসি।

মস্কোর স্পার্তাক স্টেডিয়ামে সেই ভুলে যাওয়ার মতো ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। আগুয়েরোর দারুণ গোলে লিড পেয়েছিল দলটি। আইসল্যান্ডকে সমতায় ফেরায় আলফ্রেড ফিনবগাসনের গোল। মেসির সামনে সুযোগ ছিল পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ানোর, কিন্তু গোলরক্ষক হানেস হালডোরসন তার জীবনের সেরা সেভটি করে মেসিকে হতাশ করেছিলেন।

মেসির ভয় পেয়ে যাওয়া ম্যাচের স্মৃতি ফেরানো দ্বৈরথ নিয়ে কিন্তু উচ্ছ্বসিত সংশ্লিষ্টরা। ৮৭ বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়কে ঘিরে সাজছে এই ভেন্যু। মজার বিষয় হচ্ছে, বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরুর আগে আর্জেন্টিনা যে দুটি ভেন্যুতে খেলবে, তার কোনোটিতে অতীতে খেলার অভিজ্ঞতা হয়নি মেসির।

অবার্নের স্পোর্টিং ডিরেক্টর জন কোহেনও মেসিদের আগমণে রোমাঞ্চিত। ম্যাচের আগে তিনি বলছিলেন, ‘বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা তাদের শিরোপা রক্ষার মিশনে নামার আগে অবার্নকে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া একটি অসাধারণ সাফল্য এবং অবিশ্বাস্য সুযোগ।’ আইসল্যান্ডকে মোকাবিলার আগে হন্ডুরাসের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা আরেক ম্যাচ খেলবে ৬ জুন। টেক্সাসের কলেজ স্টেশনে কাইল ফিল্ড স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচটি।

যাদের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের এবারের বিশ্বকাপে দেখা যাবে না। বর্তমানে আইসল্যান্ড ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ৭৫তম স্থানে রয়েছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ফ্রান্স, ইউক্রেন ও আজারবাইজানের সঙ্গে ‘ডি’ গ্রুপে তৃতীয় হয়ে তারা আসর থেকে ছিটকে গেছে। ২০১৮ সালে মস্কোর সেই ম্যাচ ছিল আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একমাত্র লড়াই।

অন্যদিকে, হন্ডুরাস বর্তমানে র‍্যাংকিংয়ে ৬৬তম স্থানে আছে। গত ফেব্রুয়ারিতে স্প্যানিশ কোচ হোসে ফ্রান্সিসকো মলিনার আগমনের পর দলটি ২০৩০ বিশ্বকাপের লক্ষ্যে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এটি হবে হন্ডুরাসের চতুর্থ ম্যাচ। আগের তিন লড়াইয়েই আর্জেন্টিনা জিতেছে, যার শেষটি ছিল ২০২২ সালে ৩-০ ব্যবধানে, যেখানে মেসি জোড়া গোল করেছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

জোড়ালো হচ্ছে ইরানে স্থল হামলা চালানোর যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা

মেসির সেই ভয়ের স্মৃতি ফিরবে ৯ জুন!

Update Time : 04:22:06 pm, Friday, 10 April 2026

মেসির সামনে আবারও সেই আইসল্যান্ড—রাশিয়া বিশ্বকাপের যে ম্যাচে পেনাল্টি মিস করে লকার রুমে বিষণ্নতা নামিয়ে এনেছিলেন! এবার অবশ্য প্রতিযোগিতামূলক নয়—বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা; যার একটি আইসল্যান্ডের বিপক্ষে, আরেক প্রতিপক্ষ হন্ডুরাস।

৯ জুন অ্যালাবামার অবার্নের জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ম্যাচের আগে মেসি ফিরে গিয়েছিলেন ২০১৮ সালের পুরোনো স্মৃতিতে। জানালেন সেই পেনাল্টি শট নেওয়ার সময় নিজের মাঝে কী কাজ করছিল। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ দলের সতীর্থ নাহুয়েল গুজম্যানের কাছে সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি জানিয়েছেন, শট নেওয়ার আগে তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন!

‘রাশিয়ায় বিশ্বকাপ শুরুর আগে আমি অনুশীলন মাঠে পাতনের (নাহুয়েল গুজম্যানের) বিপক্ষে অন্তত ৩ লাখ পেনাল্টি নিয়েছিলাম। আমি তাকে বলতাম—‘প্রস্তুত হও পাতা, দেখো বল ওই দিকেই যাবে।’ আমি তখন সবসময় পা প্রসারিত করেই শট নিতাম এবং সেগুলো ওপরের কোনা দিয়ে যেত। সে একটা বলও ধরতে পারত না। কিন্তু আইসল্যান্ডের বিপক্ষে যখন পেনাল্টি নিতে গেলাম, আমি জোরে শট নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আমি ভয় পেয়ে যাই এবং পা পুরোপুরি প্রসারিত না করেই শট নিয়ে ফেলি’—বলছিলেন মেসি।

মস্কোর স্পার্তাক স্টেডিয়ামে সেই ভুলে যাওয়ার মতো ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। আগুয়েরোর দারুণ গোলে লিড পেয়েছিল দলটি। আইসল্যান্ডকে সমতায় ফেরায় আলফ্রেড ফিনবগাসনের গোল। মেসির সামনে সুযোগ ছিল পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ানোর, কিন্তু গোলরক্ষক হানেস হালডোরসন তার জীবনের সেরা সেভটি করে মেসিকে হতাশ করেছিলেন।

মেসির ভয় পেয়ে যাওয়া ম্যাচের স্মৃতি ফেরানো দ্বৈরথ নিয়ে কিন্তু উচ্ছ্বসিত সংশ্লিষ্টরা। ৮৭ বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়কে ঘিরে সাজছে এই ভেন্যু। মজার বিষয় হচ্ছে, বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরুর আগে আর্জেন্টিনা যে দুটি ভেন্যুতে খেলবে, তার কোনোটিতে অতীতে খেলার অভিজ্ঞতা হয়নি মেসির।

অবার্নের স্পোর্টিং ডিরেক্টর জন কোহেনও মেসিদের আগমণে রোমাঞ্চিত। ম্যাচের আগে তিনি বলছিলেন, ‘বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা তাদের শিরোপা রক্ষার মিশনে নামার আগে অবার্নকে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া একটি অসাধারণ সাফল্য এবং অবিশ্বাস্য সুযোগ।’ আইসল্যান্ডকে মোকাবিলার আগে হন্ডুরাসের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা আরেক ম্যাচ খেলবে ৬ জুন। টেক্সাসের কলেজ স্টেশনে কাইল ফিল্ড স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচটি।

যাদের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের এবারের বিশ্বকাপে দেখা যাবে না। বর্তমানে আইসল্যান্ড ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ৭৫তম স্থানে রয়েছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ফ্রান্স, ইউক্রেন ও আজারবাইজানের সঙ্গে ‘ডি’ গ্রুপে তৃতীয় হয়ে তারা আসর থেকে ছিটকে গেছে। ২০১৮ সালে মস্কোর সেই ম্যাচ ছিল আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একমাত্র লড়াই।

অন্যদিকে, হন্ডুরাস বর্তমানে র‍্যাংকিংয়ে ৬৬তম স্থানে আছে। গত ফেব্রুয়ারিতে স্প্যানিশ কোচ হোসে ফ্রান্সিসকো মলিনার আগমনের পর দলটি ২০৩০ বিশ্বকাপের লক্ষ্যে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এটি হবে হন্ডুরাসের চতুর্থ ম্যাচ। আগের তিন লড়াইয়েই আর্জেন্টিনা জিতেছে, যার শেষটি ছিল ২০২২ সালে ৩-০ ব্যবধানে, যেখানে মেসি জোড়া গোল করেছিলেন।