দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল স্তরের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অর্জিত ছুটি ও নৈমিত্তিক ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত বা বাতিল থাকবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, আপদকালীন পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং হামের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে অধিদপ্তরসহ এর আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের ছুটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
উদ্বেগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে দেশের ৫৬টি জেলায় এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সংক্রমণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং নতুন এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ঝুঁকিতে শিশুরা
তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটায় বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৬৯ শতাংশই দুই বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে যারা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
আক্রান্তের সংখ্যা ও বিস্তার
স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে ২,১৯০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭৬ জনের শরীরে হামের ভাইরাস নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে এখনো রাঙামাটি, বাগেরহাট, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও বান্দারবান জেলায় হাম শনাক্ত হয়নি।
বর্তমানে প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬.৮, যা দেশব্যাপী বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়। যদিও ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই হার নিয়ন্ত্রণে ছিল, সাম্প্রতিক সময়ে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
Reporter Name 














