পার্কিং অবমুক্তে উদ্যোগের আশ্বাস চউক চেয়ারম্যানের, ট্যাগ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:17:34 am, Friday, 24 July 2026
  • 7 Time View

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম নগরীর ক্রমবর্ধমান যানজট নিরসনে অনুমোদিত নকশায় নির্ধারিত পার্কিং স্থান অবমুক্ত এবং পার্কিংয়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। একই সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক বিভাগকে সহায়তাকারী শিক্ষার্থীদের সংগঠন ট্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট গ্রুপ (ট্যাগ)-এর কার্যক্রমের প্রশংসা করে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার, চউক কার্যালয়ে ট্যাগ সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় ট্যাগের সদস্যরা চউক চেয়ারম্যানের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এতে নগরীর বিভিন্ন আবাসিক, বাণিজ্যিক ভবন, হাসপাতাল ও বিপণিবিতানে অনুমোদিত নকশায় সংরক্ষিত পার্কিং স্থান অবমুক্ত করা, পার্কিং এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ভবিষ্যতে পার্কিং অন্য কাজে ব্যবহার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
ট্যাগের প্রতিনিধিরা জানান, তারা বর্তমানে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে নগরীর ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করছেন। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা দেখতে পেয়েছেন, বহু ভবনে অনুমোদিত নকশায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো দোকান, গুদাম কিংবা অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ভবনে আসা যানবাহন সড়কের ওপর পার্ক করতে বাধ্য হচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে নগরীর সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) এবং চউকের বিধিমালা অনুযায়ী পার্কিং সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক ভবনের সামনে অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং যানজটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
মতবিনিময় সভায় চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিং নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নগরীর যানজট নিরসনে সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে চউক ইতোমধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক ভবনের পার্কিং ব্যবস্থা, অনুমোদিত নকশা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা প্রতিপালনের বিষয়টি পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। যেখানে নকশা লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলবে, সেখানে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সিএমপির ট্রাফিক বিভাগকে সহায়তা করে শিক্ষার্থীরা যে জনসেবামূলক ভূমিকা পালন করছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মাঠপর্যায়ে কাজ করার কারণে নগরীর যানজটের বাস্তব চিত্র ও সমস্যাগুলো সম্পর্কে তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের দেওয়া পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ নগর পরিকল্পনা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চেয়ারম্যান ট্যাগের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, অনুমোদিত পার্কিং স্থান অবমুক্ত, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পার্কিংয়ের অপব্যবহার বন্ধে চউক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে নগরীর যানজট নিরসনে চউক, সিএমপি ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

১ কোটি ৭০ লাখের ঘরে পরীমণি, পিছিয়ে গেল সাকিব

পার্কিং অবমুক্তে উদ্যোগের আশ্বাস চউক চেয়ারম্যানের, ট্যাগ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়

Update Time : 10:17:34 am, Friday, 24 July 2026

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম নগরীর ক্রমবর্ধমান যানজট নিরসনে অনুমোদিত নকশায় নির্ধারিত পার্কিং স্থান অবমুক্ত এবং পার্কিংয়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। একই সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক বিভাগকে সহায়তাকারী শিক্ষার্থীদের সংগঠন ট্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট গ্রুপ (ট্যাগ)-এর কার্যক্রমের প্রশংসা করে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার, চউক কার্যালয়ে ট্যাগ সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় ট্যাগের সদস্যরা চউক চেয়ারম্যানের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এতে নগরীর বিভিন্ন আবাসিক, বাণিজ্যিক ভবন, হাসপাতাল ও বিপণিবিতানে অনুমোদিত নকশায় সংরক্ষিত পার্কিং স্থান অবমুক্ত করা, পার্কিং এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ভবিষ্যতে পার্কিং অন্য কাজে ব্যবহার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
ট্যাগের প্রতিনিধিরা জানান, তারা বর্তমানে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে নগরীর ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করছেন। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা দেখতে পেয়েছেন, বহু ভবনে অনুমোদিত নকশায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো দোকান, গুদাম কিংবা অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ভবনে আসা যানবাহন সড়কের ওপর পার্ক করতে বাধ্য হচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে নগরীর সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) এবং চউকের বিধিমালা অনুযায়ী পার্কিং সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক ভবনের সামনে অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং যানজটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
মতবিনিময় সভায় চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিং নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নগরীর যানজট নিরসনে সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে চউক ইতোমধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক ভবনের পার্কিং ব্যবস্থা, অনুমোদিত নকশা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা প্রতিপালনের বিষয়টি পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। যেখানে নকশা লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলবে, সেখানে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সিএমপির ট্রাফিক বিভাগকে সহায়তা করে শিক্ষার্থীরা যে জনসেবামূলক ভূমিকা পালন করছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মাঠপর্যায়ে কাজ করার কারণে নগরীর যানজটের বাস্তব চিত্র ও সমস্যাগুলো সম্পর্কে তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের দেওয়া পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ নগর পরিকল্পনা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চেয়ারম্যান ট্যাগের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, অনুমোদিত পার্কিং স্থান অবমুক্ত, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পার্কিংয়ের অপব্যবহার বন্ধে চউক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে নগরীর যানজট নিরসনে চউক, সিএমপি ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।