মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিতে আগ্রহী এস্তোনিয়া

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬ পঠিত: ১৪ বার

বাংলাদেশের ই-গভর্নেন্স, ডিজিটাল রূপান্তর ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এস্তোনিয়া। সোমবার (১০ আগস্ট) এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও এস্তোনিয়ার দ্বিতীয় দফার পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের বৈঠকে (ফরেন অফিস কনসালটেশন) এসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় (পূর্ব ও পশ্চিম) সচিব মো. নজরুল ইসলাম। এস্তোনিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিভাগের প্রধান মাতি মুর্দ। বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

আলোচনায় তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সহযোগিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এস্তোনিয়া বাংলাদেশকে ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা (ই-আইডি), নিরাপদ তথ্য বিনিময়, উদ্ভাবন ও ই-গভর্নেন্সে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটির কয়েকটি ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানানো হয়।

দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, কেয়ারগিভিং, নির্মাণ, আতিথেয়তা, পর্যটন এবং কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ ইতিবাচক মত প্রকাশ করে।

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া এস্তোনিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।

দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তাবও আলোচনায় আসে।

এ ছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পারস্পরিক সফর, পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠন, শিক্ষা, গবেষণা, ক্রীড়া, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগ সুরক্ষা ও শিল্প খাতে সহযোগিতাসহ ঝুলে থাকা কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ফোরামে, বিশেষ করে জাতিসংঘে, পারস্পরিক সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়েও ঐকমত্য হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে এস্তোনিয়া।

এর আগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ন্যাটো ও ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি কারিন মান্দির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে অংশ নেয়। সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *