নিজামপুর ইউপি নির্বাচনে জনগণের আস্থা রাজা
স্টাফ রিপোর্টার, রাহাত হোসেন
যশোরের শার্শা উপজেলায় নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে সমগ্র এলাকা জুড়ে। হাট-বাজার, চায়ের দোকান কিংবা পাড়া-মহল্লা—সর্বত্রই এখন একটাই আলোচনা, কে হচ্ছেন ১১নং নিজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের আগামী দিনের কান্ডারী? তবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয়দের মুখ থেকে জোরেশোরে যার নামটি উঠে আসছে, তিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা, ফ্যাসিস্ট বিরোধী রাজপথের লড়াকু যোদ্ধা, ছাত্রদল নেতা খান মোহাম্মদ আলী রাজা।
শিক্ষাজীবনে তিনি ইংরেজি বিষয়ে বি.এ (সম্মান) ও এম.এ এবং পরবর্তীতে এল.এল.বি ডিগ্রি অর্জন করে। বর্তমানে তিনি জজ কোর্ট, যশোরে একজন শিক্ষানবীশ আইনজীবী হিসেবে যুক্ত আছেন।
২০০৭ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন খান মোহাম্মদ আলী রাজা। তিনি সরকারি এম. এম. কলেজ শাখার সক্রিয় কর্মী ও প্রথম সারির নেতৃত্বদানকারী হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এম. এম. কলেজে কোনো কমিটি অনুমোদিত না থাকায় তিনি দলীয় পদ না পেলেও কলেজ শাখা ছাত্রদলের প্রতিটি মিছিলে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং স্লোগান ধরেছেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত যশোর জেলা ছাত্রদলের নির্বাহী সদস্য এবং ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত যশোর জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিনের জরুরি অবস্থা ভাঙা থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের প্রায় সবকটি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমল জুড়ে রাজপথে সরব থাকার কারণে তাঁকে বহুবার রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হতে হয়।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়। ২০১৬ সালে আরাফাত রহমান কোকোর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালনের সময় এবং ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর হরতালে গ্রেপ্তার হয়ে তাকে দীর্ঘ সময় কারাভোগ করতে হয়। তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে মোট ৪টি মামলা রয়েছে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি অসংখ্যবার প্রতিপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলার শিকার হন। ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে শার্শা ও এম. এম. কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। বিশেষ করে ২০১৩ এবং ২০২৩ সালের ঢাকার মহাসমাবেশ ও হরতালে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারসেল এবং সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন।২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের হরতালে ডিবি পুলিশের নির্মম মারধরে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল।
এছাড়া শার্শা উপজেলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন, বন্যার্তদের ত্রাণ কার্যক্রমে ফান্ড সংগ্রহ, এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ প্রচারের জন্য তিনি সবসময় সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিজ এলাকার পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিগত ১৭ বছর ধরে শার্শায় বিএনপির নির্যাতিত ও আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসা, রক্ত ম্যানেজ করা এবং আইনি সহায়তাসহ নানা মানবিক কাজে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন।
বর্তমানে তিনি শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১১নং নিজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁর দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অবদানের কথা ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
স্থানীয় প্রবীণ ও তরুণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঐতিহ্যগতভাবেই নিজামপুরের মানুষ এবার একজন উদ্যমী ও তরুণ নেতৃত্ব দেখতে চান, যিনি ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, তরুণ সমাজের অবক্ষয় রোধ এবং জনকল্যাণমুখী সেবা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবেন। সেই জায়গায় খান মোহাম্মদ আলী রাজা ইতোমধ্যেই তার সততা, কর্মঠ মনোভাব ও রাজপথের ত্যাগী নেতৃত্বের মাধ্যমে সর্বসাধারণের মনে এক শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন।
