মূল কন্টেন্টে যান
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

জলবায়ু সহনশীল বসতভিটা গড়তে মোংলায় ৫,০০০ বৃক্ষের চারা বিতরণ

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পঠিত: ১ বার
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাগেরহাটের মোংলায় ৫,০০০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা ও কলম বিতরণ করা হয়েছে।পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর কারিগরি সহায়তা ও গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (GCF)-এর অর্থায়নে নবলোক পরিষদ পরিচালিত “Resilient Homestead and Livelihood Support to the Vulnerable Coastal People of Bangladesh (GCF-RHL)” প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
​কার্যক্রমের বিবরণ ও সুফলভোগী:
​চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মোট ৮,০০০টি চারার মধ্যে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ৫,০০০টি চারা বিতরণ করা হয়েছে।উপকারভোগী ও বিতরণকৃত চারা: চিলা, মিঠাখালী, চাঁদপাই ও সুন্দরবন ইউনিয়নের ৫০০ জন নির্বাচিত উপকারভোগীর মধ্যে প্রতিজনকে ১০টি করে (২টি নারিকেল, ২টি সুপারি, ২টি সফেদা, ২টি কদবেল ও ২টি নিম) চারা দেওয়া হয়।​সুরক্ষা সামগ্রী: চারা পরিচর্যা ও সুরক্ষার জন্য প্রতিটি পরিবারকে ২৭ গজ করে মোট ১৩,৫০০ গজ ব্লু-নেট সরবরাহ করা হয়।সর্বশেষ ধাপ: মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) চাঁদপাই ও চিলা ইউনিয়নের ১০৩ জন উপকারভোগীর মাঝে চারা বিতরণের মাধ্যমে চলতি ধাপের কার্যক্রম শেষ হয়।​সামগ্রিক অগ্রগতি: ইতিপূর্বে বিগত অর্থবছরগুলোতে বিতরণ করা ৩২,৭১৫টি চারা সহ এ পর্যন্ত মোট ৩৭,৭১৫টি চারা বিতরণ করা হয়েছে, যার ফলে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫,৩১১ জনে। এছাড়া সোনাইলতলা ইউনিয়নের দুটি সড়কের পাশে আরও ২,০৪০টি বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে।অনুষ্ঠান ও অতিথিবৃন্দের বক্তব্য: প্রকল্প সমন্বয়কারী কাজী তোবারক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন:
​প্রধান অতিথি (পীযূষ রায়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা): তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততা কবলিত অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানোর পাশাপাশি কাঠ ও ফলের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তিনি উপকারভোগীদের চারা রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান।বিশেষ অতিথি ছিলেন মোঃ নূর আলম শেখ, (পরিবেশকর্মী ও ‘ধরা’-এর সদস্য): তিনি উল্লেখ করেন, সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। চারা বিতরণ সফল করতে প্রতিটি গাছকে যত্ন সহকারে বাঁচিয়ে রাখার ওপর তিনি জোর দেন।সভাপতি (কাজী তোবারক হোসেন, প্রকল্প সমন্বয়কারী): তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও সম্পদের ক্ষতি কমানো এবং টেকসই জীবিকা সৃষ্টি করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
​আয়োজকদের আশা, সময়োপযোগী এ উদ্যোগ মোংলার উপকূলীয় এলাকায় সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু সহনশীল বসতভিটা গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *