যশোরে মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল ও কাওয়ালী সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত
যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল ও কাওয়ালী সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা জামায়াতে ইসলামী।
প্রথম পর্বে মাহফিলে মহানবীর জীবন ও কর্মের ওপর প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার, লেখক ও তরুণ বক্তা মুফতি আলী হাসান উসামা।
তিনি তার বক্তৃতায় বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবন ছিল সত্য, ন্যায়, ইনসাফ, মানবিকতা ও আল্লাহভীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্যেই মানবজাতির প্রকৃত শান্তি ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.) অন্ধকারাচ্ছন্ন আরব সমাজকে ঈমান, তাকওয়া, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের আলোয় আলোকিত করেছিলেন। তিনি মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন, জুলুম-অত্যাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং অসহায় মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার শিক্ষা দিয়েছেন। বর্তমান সংকটময় সময়ে তাই সীরাতুন্নবী (সা.) অধ্যয়ন এবং তাঁর আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।
মুফতি আলী হাসান উসামা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় আদর্শ। তাঁর জীবনে সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, ক্ষমাশীলতা, দয়া, ধৈর্য ও ন্যায়পরায়ণতার অনন্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের উদ্দেশ্য শুধু রাসূল (সা.)-এর প্রশংসা করা নয়, বরং তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে পরিবর্তন আনা। পরিবারে উত্তম আচরণ, প্রতিবেশীর অধিকার, দরিদ্র ও অসহায়ের প্রতি দায়িত্ব, ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে।
দেশের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষক সময়মতো প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন কি না, বিদ্যুৎ ও সেচের ব্যবস্থা স্বাভাবিক আছে কি না—এসব বিষয় সরাসরি মানুষের জীবন ও কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের চাপও মানুষের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সার সরবরাহ ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে কৃষক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
মাহফিলের সভাপতি যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি বলেন, মহানবী (সা.)-এর সীরাত আমাদের জীবনের পূর্ণাঙ্গ পথনির্দেশনা। তাঁর আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিষ্ঠা করতে পারলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, নৈতিক অবক্ষয়, মাদক, অপরাধ, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
১০ অক্টোবর কেন্দ্র ঘোষিত লংর্মাচ কর্মসূচিকে সফল করতে যশোরসহ খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলা-উপজেলা থেকে শান্তিপূর্ণভাবে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলায় না গিয়ে জনগণের দাবি জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। ১০ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষিত হয়েছে।
মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, গোলাম কুদ্দুস, মাওলানা রেজাউল করিম, ভিপি আব্দুল কাদের, অধ্যাপক আবুল হাশিম রেজা, অফিস সেক্রেটারি নূর-ই আলী নূর মামুন, সাবেক নায়েবে আমীর আব্দুল আজিজসহ জেলা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক শামসুজ্জামান।
দ্বিতীয় পর্বে সন্ধ্যায় একই মঞ্চে রাসুলের শানে অনুষ্ঠিত হয় ‘নাতে রাসুল ও কাওয়ালী সন্ধ্যা’। জীবনতরী সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আয়োজনে এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। এতে ইসলামী সংগীত ও কাওয়ালী পরিবেশন করেন অ্যাড. রোকনুজ্জামান, তারার মেলা শিল্পী গোষ্ঠী, যশোর সাংস্কৃতিক সংসদ ও তরঙ্গ শিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পীরা।
