মনোনয়ন তুলতে গিয়ে বাধা : দলের জন্য ত্যাগ স্বীকারের বর্ণনা দিলেন কনকচাঁপা

  • Reporter Name
  • Update Time : 08:01:54 pm, Saturday, 11 April 2026
  • 20 Time View

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন তুলতে গিয়ে বাধা, ব্যক্তিগত ক্ষতি এবং দলের প্রতি অটুট আনুগত্যের কথা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা।

পোস্টে তিনি লিখেন, আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় সুধীজন, আমি বিশ্বাস করি সব ফায়সালার কারিগর আল্লাহ রহমানুর রহিম। আর যে কোনো রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত দলের সম্মানিত নীতিনির্ধারকদের। তাদের প্রতি আমি পূর্ণ আস্থা এবং সম্মান রাখি। আপনারা জানেন অথবা কেউ কেউ জানেন না যে, আমি আজীবন মানুষের পাশে থেকেছি আমার সাধ্যমতো।

আমার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে। আমাদের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৩ সালে আমাকে রাজনীতিতে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। তখনই উনি মহিলা সংরক্ষিত আসনের বদলে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা বলেন এবং যেটা আমার জন্য খুবই কঠিন কাজ ছিল। তবু্ও আমি তার কথা বেদবাক্য হিসেবে মেনে নিয়ে কাজ শুরু করি।

তিনি লিখেন, যার ফলশ্রুতিতে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে একজন বর্ষীয়ান দুঁদে রাজনীতিবিদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচনের জন্য নমিনেশন পাই। এবং বলাই বাহুল্য সে যাত্রা সহজ ছিল না। ছিল বিপদসংকুল এবং আমার জন্য দুরূহ। আমি এবং আমার আল্লাহ জানেন আমার সীমিত ক্ষমতা দিয়ে এই লড়াই চালানোর চেষ্টা করে গেছি। আমি একজন রাজনৈতিকমনস্ক মানুষ, কিন্তু আমি রাজনীতিবিদ নই, যার জন্য পুরো কাজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল এবং নেত্রীর আদেশ আমি পালন করেছি।

তারপর দীর্ঘ অনেকগুলো বছর যে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি তা বর্ণনাতীত। বিগত আমলে আমরা নেতাকর্মীরা নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছি, কেউ জেল খেটেছে, কেউ মামলা খেয়েছে। 

আর আমি? আমি মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছি। একজন শিল্পী গাইতে না পারলে তার কী বাকি থাকে বলুন? বাংলাদেশের মাটিতে কোথাও কোনো গান গাইতে পারিনি। আমি নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য ফুল, লতাপাতা, ছবি আঁকা, আমার পরিবার ও রান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করেছি।

আমি সবার ক্ষতিকেই ক্ষতি হিসেবে দেখি, তাদের এই ত্যাগকে মূল্যায়ন করি কিন্তু আমার এই যে ক্যারিয়ার হারানো, নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার কোনো স্বীকৃতি কি আমি পেতে পারি না? 

 এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে আমার নির্বাচনী এলাকায় কাজ শুরু করি। বছরভর নিজের দলের ভেতরের বাধাবিপত্তি পেরিয়ে নিরলস কাজ করেছি কিন্তু কোনো কারণে দল আমাকে মনোনীত করেনি। তা আমি কষ্ট পেলেও মেনে নিয়েছি। এবং সেজন্য কে কি ভাবলো তাতে আমার কিছু আসে যায় না। দলের প্রতি আমার আনুগত্য একশ পার্সেন্ট।
 
কিন্তু অযথা অন্যায়ভাবে মিথ্যাচার করে মানুষের কাছে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার হীন প্রচেষ্টা বস্তুতই দুরভিসন্ধিমূলক। আমার মনে হয় যারা জাতীয় নির্বাচনে চায়নি যে আমি নমিনেশন পাই, তারা এখনো এই অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন। 

শিল্পী লেখেন, দলের যে কারও অধিকার আছে নমিনেশন চাওয়ার এবং যে কেউ নিজেকে যোগ্য মনে করারও অধিকার রাখে, আবার দলের নীতিনির্ধারকদেরও বিধান আছে যাচাই-বাছাই করে সঠিক মানুষকে বেছে নেওয়া। অতএব নমিনেশন ফর্ম কেনার দুয়ার সবার জন্য খোলা বলাইবাহুল্য। 

যাইহোক, আমার সঙ্গে করা অনেক অন্যায়ের বিচারের ভার আমি আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলাম; কিন্তু এর ফলে দলের যদি কোনো ইমেজ ক্ষুণ্ন হয় তা খুবই দুঃখজনক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

১ কোটি ৭০ লাখের ঘরে পরীমণি, পিছিয়ে গেল সাকিব

মনোনয়ন তুলতে গিয়ে বাধা : দলের জন্য ত্যাগ স্বীকারের বর্ণনা দিলেন কনকচাঁপা

Update Time : 08:01:54 pm, Saturday, 11 April 2026

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন তুলতে গিয়ে বাধা, ব্যক্তিগত ক্ষতি এবং দলের প্রতি অটুট আনুগত্যের কথা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা।

পোস্টে তিনি লিখেন, আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় সুধীজন, আমি বিশ্বাস করি সব ফায়সালার কারিগর আল্লাহ রহমানুর রহিম। আর যে কোনো রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত দলের সম্মানিত নীতিনির্ধারকদের। তাদের প্রতি আমি পূর্ণ আস্থা এবং সম্মান রাখি। আপনারা জানেন অথবা কেউ কেউ জানেন না যে, আমি আজীবন মানুষের পাশে থেকেছি আমার সাধ্যমতো।

আমার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে। আমাদের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৩ সালে আমাকে রাজনীতিতে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। তখনই উনি মহিলা সংরক্ষিত আসনের বদলে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা বলেন এবং যেটা আমার জন্য খুবই কঠিন কাজ ছিল। তবু্ও আমি তার কথা বেদবাক্য হিসেবে মেনে নিয়ে কাজ শুরু করি।

তিনি লিখেন, যার ফলশ্রুতিতে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে একজন বর্ষীয়ান দুঁদে রাজনীতিবিদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচনের জন্য নমিনেশন পাই। এবং বলাই বাহুল্য সে যাত্রা সহজ ছিল না। ছিল বিপদসংকুল এবং আমার জন্য দুরূহ। আমি এবং আমার আল্লাহ জানেন আমার সীমিত ক্ষমতা দিয়ে এই লড়াই চালানোর চেষ্টা করে গেছি। আমি একজন রাজনৈতিকমনস্ক মানুষ, কিন্তু আমি রাজনীতিবিদ নই, যার জন্য পুরো কাজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল এবং নেত্রীর আদেশ আমি পালন করেছি।

তারপর দীর্ঘ অনেকগুলো বছর যে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি তা বর্ণনাতীত। বিগত আমলে আমরা নেতাকর্মীরা নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছি, কেউ জেল খেটেছে, কেউ মামলা খেয়েছে। 

আর আমি? আমি মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছি। একজন শিল্পী গাইতে না পারলে তার কী বাকি থাকে বলুন? বাংলাদেশের মাটিতে কোথাও কোনো গান গাইতে পারিনি। আমি নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য ফুল, লতাপাতা, ছবি আঁকা, আমার পরিবার ও রান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করেছি।

আমি সবার ক্ষতিকেই ক্ষতি হিসেবে দেখি, তাদের এই ত্যাগকে মূল্যায়ন করি কিন্তু আমার এই যে ক্যারিয়ার হারানো, নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার কোনো স্বীকৃতি কি আমি পেতে পারি না? 

 এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে আমার নির্বাচনী এলাকায় কাজ শুরু করি। বছরভর নিজের দলের ভেতরের বাধাবিপত্তি পেরিয়ে নিরলস কাজ করেছি কিন্তু কোনো কারণে দল আমাকে মনোনীত করেনি। তা আমি কষ্ট পেলেও মেনে নিয়েছি। এবং সেজন্য কে কি ভাবলো তাতে আমার কিছু আসে যায় না। দলের প্রতি আমার আনুগত্য একশ পার্সেন্ট।
 
কিন্তু অযথা অন্যায়ভাবে মিথ্যাচার করে মানুষের কাছে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার হীন প্রচেষ্টা বস্তুতই দুরভিসন্ধিমূলক। আমার মনে হয় যারা জাতীয় নির্বাচনে চায়নি যে আমি নমিনেশন পাই, তারা এখনো এই অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন। 

শিল্পী লেখেন, দলের যে কারও অধিকার আছে নমিনেশন চাওয়ার এবং যে কেউ নিজেকে যোগ্য মনে করারও অধিকার রাখে, আবার দলের নীতিনির্ধারকদেরও বিধান আছে যাচাই-বাছাই করে সঠিক মানুষকে বেছে নেওয়া। অতএব নমিনেশন ফর্ম কেনার দুয়ার সবার জন্য খোলা বলাইবাহুল্য। 

যাইহোক, আমার সঙ্গে করা অনেক অন্যায়ের বিচারের ভার আমি আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলাম; কিন্তু এর ফলে দলের যদি কোনো ইমেজ ক্ষুণ্ন হয় তা খুবই দুঃখজনক।