বাংলাদেশের শ্রমশক্তির দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করবে ফ্রান্স
বাংলাদেশের শ্রমশক্তির কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স। একই সঙ্গে বৈধ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দুই দেশ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তিনজন ফরাসি সিনেটরের একটি প্রতিনিধিদল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবাইদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত ছিলেন
বৈঠকে বাংলাদেশ-ফ্রান্স দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে দুই দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ফরাসি সিনেটের সঙ্গে আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের (আইপিইউ) আওতায় আরও বেশি সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি সংসদীয় প্রতিনিধিদল বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের আইনসভাগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে ফ্রান্সের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বৈচিত্র্য আনার বিষয়টিও উঠে আসে। বিশেষ করে ওষুধ, চামড়া, সিরামিক ও পাটজাত পণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতে রপ্তানি বাড়াতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব খাতে আরও বেশি ফরাসি বিনিয়োগের আহ্বানও জানান তিনি।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ফ্রান্সের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করে শামা ওবাইদ ইসলাম বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অভিবাসন ও গতিশীলতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের শ্রমশক্তির জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়। পাশাপাশি বৈধ ও নিয়মিত শ্রম গতিশীলতার জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘শূন্য-সহনশীলতা’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি।
এ ছাড়া পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, নারী ক্ষমতায়ন এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোতে পারস্পরিক স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
