বাসস:
হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
তিনি বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় ৫৫ লাখ পরিবারকে বছরে ৬ মাস—আগস্ট থেকে নভেম্বর এবং মার্চ ও এপ্রিল—প্রতি মাসে পরিবারপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল ১৫ টাকা কেজি দরে বিতরণ করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, গত ১৯ মার্চ পর্যন্ত এ কর্মসূচির অধীনে ৭.৯৩ লাখ মেট্রিক টন সাধারণ চাল বিতরণ করা হয়েছে। নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে সংসদে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
একই সঙ্গে পুষ্টি চাহিদা পূরণে বিশেষ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৪৮টি উপজেলায় ৫ মাসব্যাপী ৩.৭ লাখ মেট্রিক টন পুষ্টিচাল বিতরণ করা হচ্ছে, যা ভিটামিন এ, বি-১, বি-১২, বি-৯ (ফলিক অ্যাসিড), আয়রন ও জিংক সমৃদ্ধ।
বাজারদর নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওএমএস (সাধারণ) কার্যক্রমের মাধ্যমে ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ১৪টি শ্রমঘন জেলা এবং ৫২টি জেলা সদর পৌরসভায় ১,০৯১টি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে চাল ৩০ টাকা কেজি, খোলা আটা ২৪ টাকা কেজি এবং ২ কেজি প্যাকেট আটা ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন এসব কেন্দ্র থেকে ১,১৮৫ মেট্রিক টন চাল এবং ১,৪৩২ মেট্রিক টন আটা বিক্রি করা হচ্ছে।
এছাড়া চালের দাম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ৪১৮টি উপজেলায় ৮৩৬টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিদিন ৪০৬ মেট্রিক টন চাল ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওএমএস খাতে ৩ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং ৫ লাখ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ রয়েছে। গত ১৯ মার্চ পর্যন্ত এ খাতে ২.০৯ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং ৩.২৭ লাখ মেট্রিক টন গমের আটা বিক্রি হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৭০ শতাংশ।
টিসিবি’র কার্যক্রম সম্পর্কেও প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য অধিদপ্তর টিসিবির মাধ্যমে ৬৭ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭টি পরিবারের মাঝে প্রতি মাসে ৩০ টাকা কেজি দরে ৩৩ হাজার ৮৩৩ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করছে।
Reporter Name 



















