রাশিয়ায় যুদ্ধে গিয়ে বাংলাদেশি যুবক নিহত, জানা গেল পরিচয়

  • Reporter Name
  • Update Time : 11:15:23 pm, Monday, 20 April 2026
  • 130 Time View

দালালের প্রলোভনে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে গিয়ে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান মৌলভীবাজারের মুহিবুর রহমান (২৭) নামে এক যুবক। গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাশিয়ায় মারা গেলেও সোমবার (২০ এপ্রিল) বিষয়টি জানাজানি হয়। মুহিবুর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের সম্পদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মসুদ মিয়ার ছেলে। মুহিবুর রাশিয়ায় যুদ্ধের বিভিন্ন বাঙ্কারে খাবার রান্নার কাজ করতেন। 

মুহিবুরের মৃত্যুর বিষয়টি রাশিয়া থেকে পরিবারের কাছে জানান তার সহকর্মী মেহেদী হাসান নামে একজন। দেশে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন মুহিবুরের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান। হাবিবুর রহমান জানান, তার বড় ভাই মুহিবুর উচ্চশিক্ষার আশায় কয়েকবছর আগে রাশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে আড়াই বছর পড়ালেখা করেন। এরপর দেশে এসে একমাস থেকে আবার রাশিয়া চলে যান। সেখানে যাওয়ার কিছুদিন পর পরিবারের সদস্যদের জানান, তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীদের রান্নার কাজ করেন। সবশেষ গতবছর দেশে এসে বিয়ে করে আবার রাশিয়া চলে যান। 

হাবিবুর রহমান আরও জানান, বছর দুই এক আগে দালালেরা ভাইকে প্রলোভন দেখায় রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিলে মোটা অঙ্কের বেতন ও যুদ্ধ শেষে নাগরিকত্ব মিলবে। ভাই পরিবারকে না জানিয়ে হয়তো দালালদের প্রলোভনে পড়ে যুদ্ধে অংশ নেন। যেহেতু তিনি আমাদেরকে বলেছেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনীদেরকে খাবার রান্না করে খাওয়ান।

তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে একটি বাঙ্কারে অবস্থানকালে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় সেটি বিধ্বস্ত হলে ঘটনাস্থলেই আমার ভাই মুহিবুর নিহত হন। রাশিয়ান সেনাদের জন্য খাবার সরবরাহকারী মেহেদি হাসান প্রথমে পরিবারের কাছে তার মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। 

হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন আমার ভাই। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে একটাই দাবি, আমার ভাইয়ের মরদেহ যেন আমাদের কাছে এনে দেওয়া হয়। সোমবার রাতে আমতৈল ইউনিয়নের পরিষদের সদস্য মো. ইকবাল আহমদ বলেন, আমরা মুহিবুরের পরিবারের কাছ থেকে শুনেছি, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় সে রাশিয়ায় মারা গেছে। সে রাশিয়ার হয়ে ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল।

আমতৈল ইউনিয়নের পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মশাহিদ হোসেন বলেন, আমি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি। মুহিবুর নামে এক যুবক রাশিয়ায় মারা গেছেন। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

জোড়ালো হচ্ছে ইরানে স্থল হামলা চালানোর যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা

রাশিয়ায় যুদ্ধে গিয়ে বাংলাদেশি যুবক নিহত, জানা গেল পরিচয়

Update Time : 11:15:23 pm, Monday, 20 April 2026

দালালের প্রলোভনে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে গিয়ে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান মৌলভীবাজারের মুহিবুর রহমান (২৭) নামে এক যুবক। গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাশিয়ায় মারা গেলেও সোমবার (২০ এপ্রিল) বিষয়টি জানাজানি হয়। মুহিবুর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের সম্পদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মসুদ মিয়ার ছেলে। মুহিবুর রাশিয়ায় যুদ্ধের বিভিন্ন বাঙ্কারে খাবার রান্নার কাজ করতেন। 

মুহিবুরের মৃত্যুর বিষয়টি রাশিয়া থেকে পরিবারের কাছে জানান তার সহকর্মী মেহেদী হাসান নামে একজন। দেশে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন মুহিবুরের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান। হাবিবুর রহমান জানান, তার বড় ভাই মুহিবুর উচ্চশিক্ষার আশায় কয়েকবছর আগে রাশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে আড়াই বছর পড়ালেখা করেন। এরপর দেশে এসে একমাস থেকে আবার রাশিয়া চলে যান। সেখানে যাওয়ার কিছুদিন পর পরিবারের সদস্যদের জানান, তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীদের রান্নার কাজ করেন। সবশেষ গতবছর দেশে এসে বিয়ে করে আবার রাশিয়া চলে যান। 

হাবিবুর রহমান আরও জানান, বছর দুই এক আগে দালালেরা ভাইকে প্রলোভন দেখায় রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিলে মোটা অঙ্কের বেতন ও যুদ্ধ শেষে নাগরিকত্ব মিলবে। ভাই পরিবারকে না জানিয়ে হয়তো দালালদের প্রলোভনে পড়ে যুদ্ধে অংশ নেন। যেহেতু তিনি আমাদেরকে বলেছেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনীদেরকে খাবার রান্না করে খাওয়ান।

তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে একটি বাঙ্কারে অবস্থানকালে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় সেটি বিধ্বস্ত হলে ঘটনাস্থলেই আমার ভাই মুহিবুর নিহত হন। রাশিয়ান সেনাদের জন্য খাবার সরবরাহকারী মেহেদি হাসান প্রথমে পরিবারের কাছে তার মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। 

হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন আমার ভাই। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে একটাই দাবি, আমার ভাইয়ের মরদেহ যেন আমাদের কাছে এনে দেওয়া হয়। সোমবার রাতে আমতৈল ইউনিয়নের পরিষদের সদস্য মো. ইকবাল আহমদ বলেন, আমরা মুহিবুরের পরিবারের কাছ থেকে শুনেছি, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় সে রাশিয়ায় মারা গেছে। সে রাশিয়ার হয়ে ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল।

আমতৈল ইউনিয়নের পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মশাহিদ হোসেন বলেন, আমি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি। মুহিবুর নামে এক যুবক রাশিয়ায় মারা গেছেন।