মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

বর্ষা এলেই বেহাল ক্ষেতলালের সড়ক, দুর্ভোগের সঙ্গে বাড়ছে কৃষকের পরিবহন খরচ

রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬ পঠিত: ২৫ বার

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:

বর্ষা এলেই জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বিভিন্ন সড়কে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা, কাদা ও খানাখন্দ। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও ইটের সড়ক ডুবে আছে নোংরা পানিতে। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জনদুর্ভোগ বাড়ছে। শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন কৃষকেরাও। ভাঙাচোরা ও কাদাযুক্ত সড়কে কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি সময়ের পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে বেশি ভাড়া।

 

ক্ষেতলাল উপজেলা পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বর্ষায় উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার কোনো না কোনো সড়কে পানি জমে চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ক্ষেতলাল পৌর এলাকার ইসলামপুর, থানা বাজার-কলেজ রোড, মুন্দাইল ব্র্যাকের মোড় এবং ক্ষেতলাল-বটতলী সড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্ত ও জলাবদ্ধতা দেখা গেছে।

 

তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের আটি দাশড়া, আটিমুকুল, দাশড়া কাজীপাড়া মোড়সহ বিভিন্ন সড়কেও পানি জমে রয়েছে। বড়তারা ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর, সুতরাইল, খড়িতা ও কাঁচাকুল গ্রামের বিভিন্ন সড়কের অবস্থাও নাজুক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের আটি মুকুল ও আটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একটি ইটের সড়কের প্রায় ১০০ মিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে নোংরা পানির নিচে রয়েছে। শহিদুলের বাড়ি থেকে ভুলু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ওই সড়কে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় ইট সরে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে দুই গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

 

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, আটিমুকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নোংরা পানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান বলে, প্রতিদিন নোংরা পানি ভেঙে স্কুলে যেতে হয়। অনেক সময় পিছলে পড়ে জামাকাপড় ও বইপুস্তক ভিজে যায়।

 

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহেদুল ইসলাম বলেন, সড়কের জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমবে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ফুলবর মিয়া (৬০) বলেন, সড়কে পানি জমে থাকায় বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের চলাচলে অনেক সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করা দরকার।

 

তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসী বা প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে আগে জানাননি। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

পৌর এলাকার বিষয়ে পৌর প্রকৌশলী মো. আফতাব হোসেন বলেন, পৌর এলাকার যেসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার প্রয়োজন এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য যেসব স্থানে ড্রেন প্রয়োজন, সেগুলোর তালিকা করে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে কাজ শুরু করা যাবে।

 

তিনি আরও বলেন, ইসলামপুর ও থানা বাজার-কলেজ রোডের মতো জনবহুল সড়কে পানি জমার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রউফ বলেন, বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত করে সংস্কারের আওতায় আনার উদ্যোগ রয়েছে। যেসব সড়কে পানি জমে বেশি ক্ষতি হচ্ছে, সেসব এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জরুরি মেরামতের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে টেকসই সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

এদিকে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকদেরও বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। চলতি আমন মৌসুমে জমিতে ধান রোপণসহ বিভিন্ন কৃষিকাজ চলছে। মাঠ থেকে ধান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার সময় কাদাযুক্ত ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

একজন কৃষক বলেন, “রাস্তা ভালো থাকলে ফসল পরিবহনে সময় ও খরচ দুটোই কম হতো। এখন রাস্তার কারণে অনেক সময় গাড়ি পাওয়া যায় না, আবার গাড়ি পেলেও বেশি ভাড়া দিতে হয়। দ্রুত সড়কগুলো সংস্কার হলে কৃষকেরা উপকৃত হবেন।

 

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্ষায় জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রউফ।

 

তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর বর্ষায় যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, সেখানে শুধু সাময়িকভাবে পানি সরানো বা গর্ত ভরাট না করে স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলো টেকসইভাবে সংস্কার করা হলে জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষকদের পরিবহন ব্যয়ও কমবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *