মূল কন্টেন্টে যান
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

সৌদির তিন শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হুতির, আহত ১৩

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পঠিত: ৩ বার

সৌদি আরবের তিন শহরে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চালানো হামলায় ১৩ বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। জোটের মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফ শহরের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে হুতিরা।

এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জোটের মুখপাত্র জানান, হামলায় ১৩ বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার পাশাপাশি সাতটি বাড়ি ও দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাঁদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, হুতিরা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ এবং লোহিত সাগরের উপকূল ও বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাতের সূত্রপাত। ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বে সামরিক জোট অভিযান শুরু করে। তবে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের সংঘর্ষ অনেকটাই কমে আসে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুতিদের অগ্রযাত্রায় সেই যুদ্ধবিরতি আবারও হুমকির মুখে পড়েছে। হুতিরা লোহিত সাগরের তীরবর্তী কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখলের পর বাব আল-মানদেব প্রণালির মুখে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর ফলে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলের ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে এতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। জোটের দাবি, এর জবাবে সৌদি আরবের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে হুতিরা।

এরই মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির নৌপথ নিয়ে বিরোধও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুতিদের অগ্রযাত্রা সৌদি আরবের নিরাপত্তার পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেবের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্যও নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের কারণে ইয়েমেনে নতুন করে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *