নেত্রকোণা প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌর শহরের সাউদপাড়াস্থ মতির মোড়ে এক বিকাশ ব্যবসায়ী সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন।
দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে তার কাছ থেকে প্রায় নগদ দুই লাখ টাকা, ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মহল ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী আনিসুল হক টিপু জানান, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত আনুমানিক সোয়া ১১ টার দিকে প্রতিদিনের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন। সাউদপাড়া মতির মোড় থেকে তার বাসার দূরত্ব মাত্র ছয় থেকে সাত মিনিটের। পথিমধ্যে ৩ থেকে ৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দল তার গতিরোধ করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে।
তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা তার কাছে থাকা প্রায় দুই লাখ টাকা এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। মোবাইলগুলোতে বিকাশ, নগদ, এজেন্ট ব্যাংকিং ও ফ্লেক্সিলোড সংক্রান্ত কয়েক লাখ টাকার লেনদেন চলমান ছিল, ফলে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আনিসুল হক টিপু বলেন,“আমি প্রতিদিন এই পথেই বাড়ি ফিরি। কখনো ভাবিনি এত অল্প দূরত্বের মধ্যেই এমন ঘটনার শিকার হতে হবে। আমার কষ্টার্জিত অর্থের পাশাপাশি ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোবাইল ফোনগুলোও হারিয়েছি।।স্থানীয়দের মতে, পৌর শহরের ব্যস্ত এলাকায় এ ধরনের সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বহন করে চলাচল করায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো ব্যবসায়ী এমন ঘটনার শিকার না হন, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এখনই সময়।এলাকাবাসী জানান, এর আগেও ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর কেন্দুয়ায় এনামুল হক নামে এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে গুলি করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সাম্প্রতিক ঘটনার পর সেই ঘটনার স্মৃতিও নতুন করে সামনে এসেছে।
কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান,“খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরেরদিন অর্থাৎ বুধবার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও আরও সতর্ক থাকতেনহবে এবং প্রয়োজনে পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান রইলো। ঘটনার পর ব্যবসায়ী মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। দ্রুত ছিনতাইকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Reporter Name 













