বাতিল হবে না জামায়াত এমপির পদ বললেন ইসি

  • Reporter Name
  • Update Time : 01:58:54 pm, Thursday, 23 July 2026
  • 6 Time View

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আলোচনায় আসা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে শুধু দল থেকে বহিষ্কারের কারণে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, কোনো সংসদ সদস্যকে কেবল তার নিজ দল বহিষ্কার করলেই আইন অনুযায়ী সরাসরি তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয় না। বিষয়টিতে আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এ বিষয়ে যদি জাতীয় সংসদের স্পিকার বা সংসদ কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি পাঠান, তাহলে কমিশন উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করবে। এরপর সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে বা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে দল থেকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে—এমন কোনো স্পষ্ট বিধান সেখানে নেই।

অন্যদিকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদ সদস্য বিরোধ নির্ধারণ আইন অনুযায়ী, কোনো সদস্যের যোগ্যতা বা আসন শূন্য হওয়া নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। আইন অনুযায়ী বিরোধ উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে বিষয়টি ইসিতে পাঠানোর কথা। এরপর নির্বাচন কমিশন দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার প্রয়োগ করে শুনানি গ্রহণ করবে এবং সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত স্পিকারকে জানাবে। কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে, জামায়াতের মনোনয়নে নির্বাচিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার সৃষ্টি হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে।

দলীয় তদন্তে ঘটনাটি ‘নৈতিক স্খলন’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে ২১ জুলাই কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী তাকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২২ জুলাই দলটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত জানায়। একই সঙ্গে বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও অবহিত করার কথা জানায় জামায়াত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

জোড়ালো হচ্ছে ইরানে স্থল হামলা চালানোর যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা

বাতিল হবে না জামায়াত এমপির পদ বললেন ইসি

Update Time : 01:58:54 pm, Thursday, 23 July 2026

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আলোচনায় আসা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে শুধু দল থেকে বহিষ্কারের কারণে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, কোনো সংসদ সদস্যকে কেবল তার নিজ দল বহিষ্কার করলেই আইন অনুযায়ী সরাসরি তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয় না। বিষয়টিতে আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এ বিষয়ে যদি জাতীয় সংসদের স্পিকার বা সংসদ কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি পাঠান, তাহলে কমিশন উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করবে। এরপর সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে বা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে দল থেকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে—এমন কোনো স্পষ্ট বিধান সেখানে নেই।

অন্যদিকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদ সদস্য বিরোধ নির্ধারণ আইন অনুযায়ী, কোনো সদস্যের যোগ্যতা বা আসন শূন্য হওয়া নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। আইন অনুযায়ী বিরোধ উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে বিষয়টি ইসিতে পাঠানোর কথা। এরপর নির্বাচন কমিশন দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার প্রয়োগ করে শুনানি গ্রহণ করবে এবং সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত স্পিকারকে জানাবে। কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে, জামায়াতের মনোনয়নে নির্বাচিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার সৃষ্টি হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে।

দলীয় তদন্তে ঘটনাটি ‘নৈতিক স্খলন’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে ২১ জুলাই কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী তাকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২২ জুলাই দলটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত জানায়। একই সঙ্গে বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও অবহিত করার কথা জানায় জামায়াত।