মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

কলারোয়ায় এক মাস পর বেত্রবতীর কাঠের সাঁকো চালু, হাজারো মানুষের স্বস্তি

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬ পঠিত: ১৪ বার
আতাউর রহমান, সাতক্ষীরা ব্যুরোঃ
কলারোয়া পৌরশহরের কাঁচাবাজার সংলগ্ন বেত্রবতী নদীর ওপর ভেঙে যাওয়া কাঠের সাঁকোটি এক মাস আট দিন পর পুনর্নির্মাণ করে বৃহস্পতিবার পারাপারের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন এই কাঠের সাঁকো চালু হওয়ায় নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপারের দুর্ভোগ থেকে সাময়িকভাবে মুক্তি পেয়েছেন বেত্রবতীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষ।
গত ১২ জুলাই পানির তীব্র স্রোতে বেত্রবতী নদীর ওপর থাকা কাঠের সাঁকোটি ভেসে যায়। এরপর থেকে সাঁকোটির পরিবর্তে নৌকায় নদী পারাপার করতে হচ্ছিল শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কর্মজীবী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে। বর্ষাকালে নদীর স্রোত ও নৌকায় পারাপারের ঝুঁকিতে চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সাঁকোটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তাঁর লাগাতার প্রচেষ্টা ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন কাঠের সাঁকোটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। বর্তমানে সাঁকোটি দিয়ে মানুষ স্বাভাবিকভাবে নদী পারাপার করতে পারছেন। তবে বাইসাইকেলসহ কোনো যানবাহন এই সাঁকো দিয়ে চলতে পারবে না। কেবল পায়ে হেঁটে এই সাঁকোতে চলাচল করতে পারবেন মানুষ। সাঁকোটি চালু হওয়ায় বেত্রবতী নদীর দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এতদিন নৌকায় পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হলেও এখন কাঠের সাঁকো ব্যবহার করে সহজেই বাজার ও আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করতে পারছেন তারা। অস্থায়ী হলেও দ্রুত সময়ে পারাপারের একটি কার্যকর ব্যবস্থা করে দেওয়ায় স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তবে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, এখানে একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণ করা। স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছর কাঠের সাঁকোটি ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে স্থায়ী সমাধানের জন্য বেত্রবতী নদীর ওপর একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা জরুরি। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌরসভার প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, এখানে একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অফিসিয়াল প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এটির অনুমোদন পাওয়া গেলে অচিরেই এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব। এতে বেত্রবতী নদীর দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে দূর হবে এবং নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *