কিশোরগঞ্জে দুই গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় দুর্ভোগ ও ঝরে পড়ার “শঙ্কায়” শিশুশিক্ষার্থীরা
স্টাফ রিপোর্টার:- একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভাবে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ ও দুই শতাধিক শিশুশিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আর কষ্ট পুঞ্জীভূত হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়নে। ইউনিয়নের পাশাপাশি অবস্থিত ইদিলপুর ও বান্দুলদিয়া গ্রামে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে প্রতিদিন প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের কুন্দ্রাটি ও কার্তিকখিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হেঁটে যেতে বাধ্য হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা।
দুর্গম পথ ও শিক্ষা ব্যাহত
প্রতিদিন সকালে পিঠে ভারী ব্যাগ নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। বর্ষাকালে গ্রামীণ কাদা-মাটির পিচ্ছিল পথ অতিক্রম করে সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানো এক চরম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। দুর্গম এই যাতায়াতের কারণে শিশুরা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের শ্রেণিকক্ষের উপস্থিতি ও পড়াশোনার ধারাবাহিকতায়।
অতিরিক্ত খরচের বোঝা
সরকারি বিদ্যালয়ের দূরত্ব বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত অভিভাবকেরা সন্তানদের স্থানীয় ব্যয়বহুল কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করাচ্ছেন। এতে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা যে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা, তা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারগুলোকে বহন করতে হচ্ছে বাড়তি মাসিক ফি ও যাতায়াত খরচ।
প্রশাসনিক আবেদন ও দীর্ঘদিনের স্বপ্ন
গ্রামের বিশিষ্ট ও প্রবীণ ব্যক্তিরা দীর্ঘ দিন ধরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছেন। শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইদিলপুর গ্রামের আবদুল কদ্দুস (২১ নভেম্বর ২০২৪) এবং বান্দুলদিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডেট কলেজ কর্মকর্তা শাহ আবুল হাশেম মানিক (২ সেপ্টেম্বর ২০২৫) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত আবেদন পেশ করেন। তবে দৃশ্যমান কোনো সরকারি উদ্যোগ এখনো পরিলক্ষিত হয়নি।
স্থানীয়দের মতে, দুই গ্রামের সীমান্তবর্তী উপযুক্ত কোনো স্থানে একটি বিদ্যালয় স্থাপন করা হলে শিশুদের যাতায়াত সহজ হতো এবং ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসত।
প্রশাসনের বক্তব্য
তাড়াইল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক এ ঘটনার সত্যতা ও প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে জানান, সরকারিভাবে আপাতত নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুযোগ সীমিত। তবে গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে কোনো মানসম্মত বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠা করলে শিক্ষা দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা করা হবে।
গ্রামবাসীর আকুল আবেদন
সরকারি বা আইনি সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে শিশুদের প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইদিলপুর ও বান্দুলদিয়া গ্রামের অধিবাসীরা।
