জ্বালানি তেল কিনতে আজ থেকে গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা 

  • Reporter Name
  • Update Time : 01:58:38 am, Sunday, 19 April 2026
  • 32 Time View

বিশ্ববাজারের অস্থিরতা আর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে অনেকটা বাড়িয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন এই মূল্যতালিকা।

নতুন দরে প্রতি লিটার অকটেনে ২০ টাকা, পেট্রোলে ১৯ টাকা, ডিজেলে ১৫ টাকা এবং কেরোসিনে ১৮ টাকা করে দাম বেড়েছে।

মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এই সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, এখন থেকে গ্রাহকদের প্রতি লিটার অকটেন কিনতে হবে ১৪০ টাকায়, যা আগে ছিল ১২০ টাকা। একইভাবে পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৩০ টাকা।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাব বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।

এর নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড় এবং চাহিদামতো তেল না পাওয়ার অভিযোগও আসছিল গ্রাহকদের কাছ থেকে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকলেও আতঙ্কিত হয়ে মানুষ অতিরিক্ত তেল কেনায় এবং এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধ মজুত গড়ে তোলায় বাজারে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে জেট ফুয়েলের দামও দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছিল। গত ৭ এপ্রিল বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটারে বড় অঙ্কে বাড়িয়ে ২২৭ টাকা ০৮ পয়সা করা হয়েছিল।

সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারি মাসে লিটারে দুই টাকা করে কমানো হলেও মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে বড় ধরনের এই মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সইতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। আজ থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন দামের ফলে পরিবহন খাতসহ নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

১ কোটি ৭০ লাখের ঘরে পরীমণি, পিছিয়ে গেল সাকিব

জ্বালানি তেল কিনতে আজ থেকে গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা 

Update Time : 01:58:38 am, Sunday, 19 April 2026

বিশ্ববাজারের অস্থিরতা আর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে অনেকটা বাড়িয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন এই মূল্যতালিকা।

নতুন দরে প্রতি লিটার অকটেনে ২০ টাকা, পেট্রোলে ১৯ টাকা, ডিজেলে ১৫ টাকা এবং কেরোসিনে ১৮ টাকা করে দাম বেড়েছে।

মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এই সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, এখন থেকে গ্রাহকদের প্রতি লিটার অকটেন কিনতে হবে ১৪০ টাকায়, যা আগে ছিল ১২০ টাকা। একইভাবে পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৩০ টাকা।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাব বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।

এর নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড় এবং চাহিদামতো তেল না পাওয়ার অভিযোগও আসছিল গ্রাহকদের কাছ থেকে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকলেও আতঙ্কিত হয়ে মানুষ অতিরিক্ত তেল কেনায় এবং এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধ মজুত গড়ে তোলায় বাজারে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে জেট ফুয়েলের দামও দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছিল। গত ৭ এপ্রিল বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটারে বড় অঙ্কে বাড়িয়ে ২২৭ টাকা ০৮ পয়সা করা হয়েছিল।

সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারি মাসে লিটারে দুই টাকা করে কমানো হলেও মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে বড় ধরনের এই মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সইতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। আজ থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন দামের ফলে পরিবহন খাতসহ নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।