স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের ‘জুলাই চেতনা’কে পুঁজি করে কেউ যেন রাজনীতি বা ব্যবসার চেষ্টা না করেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই চেতনা বিক্রি করে বেশিদিন রাজনীতি করা যাবে না। যারা শুধু এমপি, মন্ত্রী বা উপদেষ্টা হওয়ার জন্য জুলাইকে ব্যবহার করেছেন, তাদের এখনো সময় আছে।’
তিনি এই ধারণার প্রবক্তা ও বুদ্ধিজীবীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এত বাক্যবাগীশ হওয়া ভালো না। কারণ এই শব্দগুলো অনেক বেশি ওজন বহন করে।
তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের ওই কঠিন সময়ে বিএনপির সিনিয়র নেতা ও বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম।
বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বেগম খালেদা জিয়াসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ত্যাগ, অবদান এবং অসংখ্য ছাত্র-জনতার ধারাবাহিক রক্তদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এই সবকিছুর সমন্বয়েই ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হয়েছে। শেখ হাসিনার পেছনে রাষ্ট্রযন্ত্র ও বিদেশি শক্তির প্রচ্ছন্ন মদদ ছিল, কিন্তু আমাদের সঙ্গে ছিল কেবল নিরস্ত্র সাধারণ জনগণ ও ছাত্র সমাজ। তারা খালি হাতে লড়াই করে এই সশস্ত্র ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।’
কিছু মহলের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদেও আমি একদিন বলেছিলাম, আপনারা তো ১৯৪৭-এ পাকিস্তানের পক্ষেও ছিলেন না, ১৯৭১-এর প্রসঙ্গে কথা উঠলেই আপনারা ১৯৪৭-এর দোহাই দেন। এখন দয়া করে ২০২৪-এর চেতনা নিয়ে থাকেন, তাহলে জনগণ উপকৃত হবে। নিজেদের হীন স্বার্থে বারবার স্রোতের বিপরীতে গিয়ে ইতিহাসকে ব্যবহার করবেন না।’
দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান হতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আর কখনো রাজপথে গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিতে চাই না। আমাদের মধ্যে বহু মত ও দ্বিমত থাকবে, যা সংসদ ও সংসদের বাইরে চর্চা হবে। কিন্তু জাতীয় প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি বিভক্ত হয়ে পড়ি, তবে তা কেবল স্বৈরাচারের ফেরার পথকেই প্রসারিত করবে।’
ফ্যাসিবাদের পুনরুৎপাদন রোধে জাতীয় ঐক্য এবং সংসদীয় ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে আরো শক্তিশালী করার জন্য দেশের সব মহলের প্রতি আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
Reporter Name 



















