মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

নতুন চুক্তি না হলে নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় দেশজুড়ে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ পঠিত: ১৫ বার

ঢাক:- নগরাঞ্চলের অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যাতে লাখো মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে বক্তব্য বলেন মোঃ আমিনুর রসুল। কোয়ালিশন ফর দ্যা আরবান পূওর-কাপ ও কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কনফারেন্স হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা জানান, সংবিধানের ১৫(ক) অনুচ্ছেদে চিকিৎসাকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব বলা হলেও ৫৫ বছরেও নগর স্বাস্থ্যসেবা মূল স্রোতধারায় আসেনি। এডিবির সহায়তায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে বর্তমানে ১২টি সিটি করপোরেশন ও ২১টি পৌরসভায় ৪৫টি নগর মাতৃসদন ও ১৬৭টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে ১৫টি এনজিওর প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মী ১৭ মিলিয়নের বেশি মানুষকে সেবা দিচ্ছেন। গত এক বছরে প্রায় ৫ লাখ প্রসবপূর্ব সেবা, ১২ লাখ শিশু টিকাদান ও লাল কার্ডের মাধ্যমে ১ কোটি দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে সেবা পেয়েছেন।

গত ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এবং ২২ এপ্রিল ক্যাবিনেট সিদ্ধান্তে দায়িত্ব স্থানীয় সরকার থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলেও নতুন চুক্তি না হওয়ায় এনজিওগুলো মানবিক কারণে সাময়িক সেবা চালু রাখলেও জুলাইয়ের পর আর ব্যয়ভার বহন করতে পারবে না। বক্তারা সতর্ক করেন, পরিকল্পনা ও অর্থায়ন নিশ্চিত না করে হঠাৎ সেবা বন্ধ হলে জাতীয় স্বাস্থ্য দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। নগরে বসবাসকারী প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের মধ্যে শিশু, গর্ভবতী নারী ও দরিদ্ররা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, টিকাদান বন্ধ, মাতৃমৃত্যু বৃদ্ধি ও প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মীর চাকরিচ্যুতির আশঙ্কার কথাও উঠে আসে। সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি জানানো হয়— বিদ্যমান এনজিওদের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন, ফ্রি লাল কার্ড সুবিধা পুনর্বহাল, পরিকল্পিত দায়িত্ব হস্তান্তর, দক্ষ জনবল ধরে রাখা এবং শতভাগ নগরবাসীর স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিতকরণ।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক ছাড়াও অতিথি হিসাবে মতামত রাখেন ডা. মুশতাক হোসেন, সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং এ্যাডভাইজার, আইইডিসিআর, মোঃ আমিনুর রসুল, সমন্বয়কারী, জনগণের স্বাস্থ্য আন্দোলন বাংলাদেশ, রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাবেক সভাপতি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও সিটি ইডিটর, সারা বাংলা.নেট, প্রতীক ইজাজ, সভাপতি, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম এবং যুগ্ম সম্পাদক, সমাজকাল, খায়রুজ্জামান কামাল, বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম, মিহির বিশ্বাস বার্তা সম্পাদক ডেইলি স্টেট।

উক্ত সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন খোন্দকার রেবেকা সান ইয়াত, নির্বাহী পরিচালক, কাপ, মূল প্রবন্ধ উপস্থান করেন হেনা আক্তার রুপা, ফোকাল পার্সন বিওএসসি ইয়োথ গ্রুপ এবং সেশন চেয়ার হিসাবে ছিলেন হোসনে আরা বেগম রাফেজা, প্রেসিডেন্ট, বিওএসসি কেন্দ্রীয় কমিটি, বস্তিবাসীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মোছাম্মৎ ছালমা প্রমুখ ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *