বিশ্বাসঘাতক ও মুনাফিকদের অতীতে উপযুক্ত জবাব দিয়েছে জনগণ: মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল
দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা ব্যুরো
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল বলেছেন, বিশ্বাসঘাতক ও মুনাফিকদের অতীতে জনগণ উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। তিনি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান এবং বলেন, অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের রায়ই চূড়ান্ত শক্তি।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষ উপলক্ষে ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বরে ঢাকা জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়েছিল। তাঁর দাবি, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমিয়ে রাখতে নানা ধরনের দমন-পীড়ন চালানো হলেও তা সফল হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন, ওই সময় বহু মানুষ নিহত ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, গুণ্ডাবাহিনীর মাধ্যমে রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যাতে নতুন করে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ঢাকা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম বলেন, কোনো বিদেশি শক্তি নয়, জনগণই ক্ষমতার প্রকৃত উৎস। তাই জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা জুলাইয়ের আদর্শ ও চেতনা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী মো. তৌফিক হাসান, ঢাকা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি হাফেজ এ বি এম কামাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. শাহাদাৎ হোসাইন, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম, রাজনৈতিক বিভাগীয় সেক্রেটারি হাসান মাহবুব, ঢাকা জেলার সূরার সদস্য মীর আতাউর রহমান, সহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল কদমতলী গোলচত্বরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
সন্ধ্যায় ৩৬ জুলাই শহীদদের স্মরণে ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলার বিভিন্ন শিল্প-গোষ্ঠী ইসলামী সংগীত ও নাটিকা উপস্থাপন করেন।।
