মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব যার যার অবস্থান থেকে কাঁধে নিতে হবে-প্রতিমন্ত্রী অমিত

বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬ পঠিত: ২৩ বার

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, এই বাংলাদেশ বিএনপির একার না, সবার। তাই নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব যার যার অবস্থান থেকে কাঁধে তুলে নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আজকে গণতন্ত্রের কথা বলবো, ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে কথা বলবো। কিন্তু ফ্যাসিস্টরা গুরুজনদের অসম্মান করা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে কটুকথা বলা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য কিংবা ভর্ৎসনা করার যে অপসংস্কৃতি রেখে গেছে, এই ঘটনাগুলো ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য বিনষ্টের বড় কারণ।

বুধবার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন যশোর আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, যখন বিএনপি ও তারেক রহমানকে জুলাই চেতনা শেখানো এবং জুলাই সনদ নিয়ে কথা বলা হয় তখন হাসি পায়- কে কাকে কী বলছে! বিএনপি স্পষ্ট করে বলেছে, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাজনৈতিক সংগঠন মিলে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিলো তার প্রতিটি শব্দ, বাক্য বিএনপি ধারণ করে এবং রাজনৈতিক প্রতিফলন ঘটানোর জন্য যা কিছু প্রয়োজন তা করবে।

‘সর্বশেষ সংসদ অধিবেশনে সময়ের বাধ্যবাধকতার মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের ইস্যুকৃত অধ্যাদেশগুলো অধিকাংশ আইনে পরিণত করা হয়। কিছু অধ্যাদেশ আমরা আইনে পরিণত করলাম না কিংবা করতে পারলাম না। তখন চারিদিকে রব উঠে গেল বিএনপি জুলাইয়ে চেতনাবিরোধী, বিএনপি গণভোট মানে না, জুলাই স্পিরিটকে ধারণ করে না- কত কিছু! বারবার আমাদের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী বললেন, ব্যাপারটি তা নয়। যে অধ্যাদেশের পরতে পরতে ভুল রয়ে গেছে। যদি আগামীতে সত্যিই ফ্যাসিস্টের আসা রোধ করতে হয়, তাহলে এটি আরও ব্যাপকভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে। গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের মধ্যে ছিল গুম, মানবাধিকার, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ। সোমবার কেবিনেট মিটিংয়ে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ সংশোধন পূর্বক চূড়ান্ত করেছি। আমরা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করেছি, যেটা আগামী দিনে সংসদে পাশ করবো।’

তিনি বলেন, যারা জুলাই অভ্যুত্থানে প্রতিদিন আমাদের সাথে অল্প সময়ের জন্য ছিলেন, আমরা কারও অবদান ভুলে যাইনি। কারও অবদানকে ছোট করতে চাই না, ছোট ছোট অবদানকে সম্মান করি। বিএনপি জুলাই স্পিরিট ধারণ করে, বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে, সমঅধিকারে বিশ্বাস করে। যারা বলছে, বিএনপি জুলাই স্পিরিট ধারণ করে না, জুলাই সনদ বোঝে না, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করছে না, তাহলে জুলাই সনদ বাস্তায়নের ঐতিহাসিক দায়িত্ব যাদের কাঁধে ছিল, মস্তিষ্কে গুলি লাগার পর স্বাভাবিক জীবন থেকে বঞ্চিত হওয়া ইনাম সিদ্দিকীকে কেন পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বঞ্চিত করা হলো? এই উত্তরটি কে দেবেন?’

প্রতিমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে জুলাইযোদ্ধা সংগঠন যশোর জেলা শাখার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উত্থাপিত দশটি দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

পরে প্রতিমন্ত্রী জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, জামায়াত নেতা আবুল হাশিম রেজা, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি, জাতীয় নাগরিক পার্টি যশোর জেলা শাখার নেতা নুরুজ্জামান প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *