মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

মাল্টা চাষে সফলতায় ফুলবাড়ী কৃষিতে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা

শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬ পঠিত: ২৪ বার

জাহাঙ্গীর হোসেন ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:- দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার দুই কৃষক শফি মাহমুদ ও জহুরুল ইসলাম পাশাপাশি মাল্টার বাগান গড়ে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবার তাদের বাগানে মাল্টার ফলনও হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে সার, কিটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রত্যাশিত লাভ পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

উপজেলার দুটি পাশাপাশি মাল্টা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছে গাছে ঝুলছে পরিপক্ব মাল্টা। সবুজে ঘেরা বাগানজুড়ে ফলের সমারোহ নজর কাড়ছে যে কারও। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও নিয়মিত পরিচর্যার ফলে এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় খুশি চাষিরা।

মাল্টা চাষি শফি মাহমুদ বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার মাল্টার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। গাছে প্রচুর মাল্টা এসেছে। কিন্তু সার, কিটনাশক ও শ্রমিকের খরচ এত বেড়েছে যে লাভ খুব বেশি হবে বলে মনে হচ্ছে না।

অপর চাষি জহুরুল ইসলাম বলেন, “বাজারে যদি মাল্টার ভালো দাম পাওয়া যায় এবং সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে, তাহলে আমাদের লাভ হবে। এতে আরও অনেক কৃষক মাল্টা চাষে আগ্রহী হবেন।

চাষিদের ভাষ্য, ফলন ভালো হলেও উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকায় লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং শ্রমিক সংকটের কারণে বাগান পরিচর্যায় আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। তাই ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, “ফুলবাড়ীর মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে মাল্টা চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনুকূল আবহাওয়া, আধুনিক পরিচর্যা এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতার কারণে ফুলবাড়ীতে মাল্টা চাষের সম্ভাবনা দিন দিন উজ্জ্বল হচ্ছে। তবে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে এ খাতে নতুন উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কমে যেতে পারে।

ভালো ফলন কৃষকদের মুখে হাসি ফুটালেও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ সেই হাসিকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে। চাষিদের প্রত্যাশা, ন্যায্যমূল্য ও বাজার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হলে ফুলবাড়ীতে মাল্টা চাষ আরও বিস্তৃত হবে এবং নতুন উদ্যোক্তারা এই সম্ভাবনাময় কৃষিতে যুক্ত হবেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *