মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে মহাবিপদে ভারত

শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬ পঠিত: ১০ বার

রাশিয়ার তেল-গ্যাস কেনায় এবার বড় ধরনের মার্কিন শুল্কের মুখে পড়তে পারে ভারত। ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর চাপ বাড়াতে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ৮৬-১১ ভোটে পাস হওয়া বিলটিতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এমনটাই জানিয়েছে এএফপি, রয়টার্স ও আল জাজিরা।

‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। তবে কংগ্রেসের গ্রীষ্মকালীন অবকাশের কারণে সেপ্টেম্বরের শুরুর আগে সেখানে এ নিয়ে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

বিলটি কার্যকর হলে রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতা ভারত ও চীনসহ অন্তত পাঁচটি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পণ্যে নতুন করে বড় শুল্ক বসতে পারে। ফলে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কেনা ভারতের রপ্তানি খাত নতুন চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত গোপন সামুদ্রিক নেটওয়ার্কগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
রাশিয়াকে চাপে ফেলতেই নতুন উদ্যোগ

সিনেটে বিল পাসের আগে রিপাবলিকান সিনেটর জিম রিশ বলেন, এই উদ্যোগ রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের প্রবাহে বড় ধরনের আঘাত করা সম্ভব হবে।

বিলটি পাসের পর স্বাগত জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, রাশিয়ার ওপর শক্তিশালী মার্কিন চাপ ও নিষেধাজ্ঞাই যুদ্ধ বন্ধে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের পাশাপাশি দেশটির জনগণের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

প্রয়াত সিনেটরের নামে বিল

বিলটির নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার ছিলেন। গত ১১ জুলাই তার মৃত্যুর পর বিলটি তার নামে নামকরণ করা হয়।

বিল পাসের পর গ্রাহামের আসনে দায়িত্ব পাওয়া তাঁর বোন ডারলাইন গ্রাহাম নর্ডোন বলেন, এই বিল পুতিনকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করবে এমন জায়গাতেই আঘাত করবে।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিনও বিলটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি পুতিনের প্রতি স্পষ্ট ও দুই দলের সমর্থিত চাপের বার্তা দিয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদে বাধার আশঙ্কা

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেইয়েন বিলটি পাসের ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন সদস্য এতে আপত্তি জানিয়েছেন।

ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিক্স ও ডন বেয়ার বলেন, নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে অতিরিক্তভাবে ব্যবহৃত হতে পারে। তাদের মতে, শুক্রবার গৃহীত বিলের বর্তমান রূপ গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনে রাশিয়ার দূতাবাসও বিলটির বিরোধিতা করেছে। দূতাবাসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি সংকট ও গ্যাসের দাম বাড়ার পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তা উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এখন বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সিনেটের এই সিদ্ধান্তে রাশিয়ার তেল কেনা ভারতীয় পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ঝুঁকিতে পড়ায় দেশটির জন্য অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *