ভয়ঙ্কর মাদকে ডুবছে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা
ইয়াবায় আসক্ত আরেক তরুণের বাবা পুলিশ কর্মকর্তা এবং মা ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা। উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা দম্পতির এই সন্তানকে নিয়ে পুরো পরিবার এখন বিপর্যস্ত। দীর্ঘদিন মাদক সেবনের কারণে তার চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এক যুবকও মাদকাসক্তির চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি দেশটির একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাদকে জড়িয়ে পড়ার পর তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হলেও তার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়া এখন অনিশ্চিত। কারণ, ডোপ টেস্টে আবার মাদকাসক্তির প্রমাণ মিললে সেখানে তার স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ধানমণ্ডির শুক্রাবাদ এলাকার এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তানও ইয়াবায় আসক্ত হয়ে নিরাময়কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন। এর আগে তাকে একাধিকবার চিকিৎসা দেওয়া হলেও সুফল মেলেনি। দীর্ঘদিনের মাদক সেবনে তার শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে।
রাজধানীর একটি নামকরা রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের মালিকের একমাত্র ছেলেও মাদকাসক্ত। দীর্ঘদিন মাদক সেবনের কারণে তার মধ্যে মানসিক রোগের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে তার সিজোফ্রেনিয়াসহ গুরুতর মানসিক জটিলতার চিকিৎসা চলছে।
এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর মাদকাসক্তির পেছনেও রয়েছে দীর্ঘদিনের নিঃসঙ্গতা। দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে সন্তান না হওয়া এবং পরে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে তার। একপর্যায়ে চরম নিঃসঙ্গতা থেকে মাদকে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বর্তমানে নিরাময়কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ সে তুলনায় বাড়েনি। দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৮০ লাখের বেশি হলেও ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি নিরাময়কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজার জন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়া, একাকিত্ব, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অঢেল অর্থবিত্তের কারণে অনেকে মাদকের দিকে ঝুঁকছেন। শিক্ষার অভাব ও মাত্রাতিরিক্ত স্বাধীনতাও এর পেছনে ভূমিকা রাখছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শুধু চিকিৎসার আওতায় আনলেই হবে না; দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা, পুনর্বাসন ও পরিবারের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে পুনরায় মাদকে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।–কালেরকণ্ঠ
