সংবাদ সম্মেলনের পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার
যশোর অফিস
যশোর সদর উপজেলার ১২ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদপাড়া গ্রামে পৈতৃক বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগের পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৩১ আগস্ট প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনের পর ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বি.এম.এলোম হোসেন রানা ও তার লোকজনের হুমকিতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী সুজন হোসেন অভিযোগ করেন, তার বাবা জাফর আলীসহ পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপাড়া গ্রামের পৈতৃক জমিতে বসবাস করে আসছেন। বসতবাড়ির পাশের পুকুরের প্রায় ২ শতক জমির মধ্যে ১ দশমিক ৫০ শতক জমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সুজন হোসেন ঐদিন দাবি করেন,পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার মাধ্যমে বিধবা ও এতিমদের প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তাদের বসতভিটার জমি দখলের জন্য স্থানীয়ভাবে সালিশের আয়োজন করা হয়। একপর্যায়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের জমির বিপরীতে মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার সাদা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে জমিটি আবুল কালাম আজাদ ও তার স্ত্রী শাহনাজ পারভীনের কাছে বিক্রি করা হলে তারা সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এ সময় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বি. এম. এলোম হোসেন রানা কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ নিয়ে আদালতে মামলা হলে বিরোধপূর্ণ জমির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ার পর আইনগতভাবে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
সুজন হোসেনের অভিযোগ, প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলনের পর ক্ষুব্ধ হয়ে এলোম হোসেন রানার লোকজনের সহযোগিতায় তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সুজন হোসেন।
