মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ

ইপিজেডের আকমল আলীতে আবারও উচ্ছেদ ওসমানের জুয়ার ঘর

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পঠিত: ১৯ বার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:- চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী খালপাড় এলাকায় আবারও অভিযান চালিয়ে কথিত জুয়াড়ী ওসমান গনির নির্মিত জুয়ার ঘর উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ প্রশাসন।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমার নেতৃত্বে ইপিজেড থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে দুর্গম স্থানে নির্মিত অস্থায়ী জুয়ার ঘরটি সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইপিজেড থানার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আকমল আলী পকেট গেইট খালপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও দুর্গম স্থানে জুয়া ও মাদক সেবনের আসর বসিয়ে আসছিল একটি চক্র। এর আগে গত ৩ জুন একই এলাকায় নির্মিত একটি জুয়ার ঘর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমার নেতৃত্বে ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।

তবে কিছুদিন বিরতির পর সম্প্রতি দক্ষিণ হালিশহর আকমল আলী খালপাড় সিডিএ বালুর মাঠের উত্তর পাশে গহীন আমবাগানের ভেতরে নতুন করে অস্থায়ী টংঘর নির্মাণ করে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ ওঠে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর এসআই (নিঃ) আবু বকরের নেতৃত্বে ইপিজেড থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে ছয়জন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় জুয়ার আসর থেকে ১৫ প্যাকেট তাস ও নগদ ৩৫ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭-এর ৩/৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান এড়াতে জুয়ার আসরে যাওয়ার পথে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং রাস্তায় কাঁটা ফেলে পুলিশি তৎপরতায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের অভিযানে জুয়ার ঘরটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় জুয়া ও মাদক সেবনের কারণে যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় ঘটছিল এবং আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছিল। একাধিকবার অভিযান ও গ্রেপ্তারের পরও কিছুদিন বিরতি দিয়ে পুনরায় একই ধরনের কার্যক্রম শুরু করা হতো।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে সর্বশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে ইপিজেড থানার এসআই (নিঃ) মো. মামুনুর রশিদ, এসআই (নিঃ) মো. কামরুজ্জামান এবং মোবাইল-৫১ ডিউটিতে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের টিমকে সহযোগিতা করেন।

স্থানীয় জনসাধারণ প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জুয়া ও মাদক সেবনের কাজে ব্যবহৃত অস্থায়ী ঘরটি অপসারণ হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *