ব্রিকস আমন্ত্রণপত্রে অসন্তুষ্ট ঢাকা, যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না। তবে ব্রিকসে না গেলেও দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে যাবেন? বাংলাদেশ সরকারের কাউকে কি আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে দিল্লি সফরের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর বহুপক্ষীয় ফোরামে অংশগ্রহণের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা দ্বিপক্ষীয় সফর ও আলোচনার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছি। যখন পরিবেশ অনুকূল হবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় থাকবে, তখন দ্বিপক্ষীয় সফর হবে। এখানে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই।
দিল্লিতে চলতি মাসের ১২ ও ১৩ তারিখে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে ওই আমন্ত্রণপত্রে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ না করে শুধু বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়, যা ভালোভাবে নেয়নি ঢাকা।
গঙ্গার পানি চুক্তি নবায়ন নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জাতীয় স্বার্থ যেখানেই জড়িত, সেখানেই আমরা গুরুত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করব। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা যা-ই বলুক না কেন, আমি আমার দেশের স্বার্থ ও আনন্দের কথা ভাবব।
বাণিজ্য ইস্যুতে আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাণিজ্য নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন আপডেট দেওয়ার মতো কিছু নেই।
রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান নিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এই ধরনের জটিল বিষয়ে হুট করে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যায় না। ধৈর্য ধরতে হবে, তবে কূটনৈতিক তৎপরতা দ্রুতগতিতে চালাতে হবে। আমরা আগামীকালই এটা সমাধান করে ফেলব–এমন দাবি হয়তো করা যাবে না। আমরা আশাবাদী যে দ্রুতই একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগদান ও যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো সফর নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ও সার্বিক বিষয়াবলি নিয়ে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। –খবরের কাগজ
