মূল কন্টেন্টে যান
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
সর্বশেষ

নেত্রকোনায় ভূমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে মানববন্ধন

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পঠিত: ১ বার

ময়মনসিংহ ব্যুরো:- নেত্রকোনায় শত বছরের সত্ত্ব-দখলীয় ভূমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টায় নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, নেত্রকোণা সদর উপজেলার পুকিরা মৌজায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় তাদের পূর্বপুরুষদের ক্রয় করা প্রায় এক একর ৬৩ শতাংশ জমি রয়েছে। জমিটির সিএস খতিয়ান ও দাগসহ পরবর্তী জরিপের বিভিন্ন রেকর্ড রয়েছে বলে দাবি তাদের।

ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম ও তার স্বজনদের দাবি, ১৯৭৬ সালে ওই জমির ৪৩ শতাংশ সরকার অধিগ্রহণ করে এবং এর মূল্য তার বাবা ও চাচা গ্রহণ করেন। পরবর্তী বিআরএস জরিপে জমির একটি অংশ অন্যের নামে রেকর্ডভুক্ত হওয়ায় তারা ২০১৫ সালে নেত্রকোণা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। মামলা নম্বর ৪৫৮/৩/২০১৫। তাদের দাবি, ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত তাদের পক্ষে ডিক্রি দেন।

তবে ডিক্রির বিরুদ্ধে পরবর্তীতে আপিল মামলা করা হয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন।

স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাতের আঁধারে ওই জমির কয়েকটি ডোবা থেকে মাছ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এ সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জানমালের নিরাপত্তা এবং আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য জমি নিয়ে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। পরে শফিকুল ইসলাম গং-এর পক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে ভূমি দখলের চেষ্টা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের দাবি করা সত্ত্ব-দখলীয় জমির অধিকার সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

তবে অভিযোগে অভিযুক্ত আনোয়ারুল ইসলাম সাগর, আল-আমীন, ওয়াজেদ আলী ফকির ও ফেরদৌস কবির রুমেলসহ অন্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এর আইনগত নিষ্পত্তির বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *