ফুলবাড়ীতে প্রতিবন্ধীর জমি প্রতারণা করে লিখে নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
জাহাঙ্গীর হোসেন, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:- দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে শারীরিক প্রতিবন্ধী ও ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত স্বামীর জমি প্রতারণার মাধ্যমে লিখে নেওয়া এবং জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্ত্রী মোছা. খাদিজাতুল কুবরা ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এসআর আবাসিকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে খাদিজাতুল কুবরা জানান, তার স্বামী মো. আব্দুর রউফ একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং বর্তমানে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ। ২০০৮ সালের দিকে দলিলমূলে ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের পুটিকরা মৌজায় জমি ক্রয় করেন তার স্বামী। জমির তফসিল অনুযায়ী সাবেক দাগ নম্বর ৭৯২ ও হাল দাগ নম্বর ৯৬৩। মোট ৪২ শতক জমির মধ্যে তার স্বামী ৩ শতক জমি ক্রয় করেন বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
খাদিজাতুল কুবরার অভিযোগ, কয়েকদিন আগে তিনি জানতে পারেন আলমগীর হোসেন, নুরুজ্জামান, সালাম ও জাকিরুল ইসলাম ওই জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জমিটি তার স্বামীর কাছ থেকে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে জানতে পারেন প্রতারণার মাধ্যমে তার স্বামীকে সমাজসেবা অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি জায়গায় নেওয়া হয়। সেখানে কিছু কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার পাশাপাশি তার স্বামীর হাতে টাকা ধরিয়ে দিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই টাকা ফেরত নিয়ে তার স্বামীর কাছ থেকে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিষয়টি জানার পর অভিযুক্তদের কাছে জানতে চাইলে তারা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।
খাদিজাতুল কুবরা জানান, এ ঘটনায় তিনি ইতোমধ্যে ফুলবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ করেছেন এবং জমি উদ্ধারে আদালতেও মামলা করেছেন। মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা জমিটি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ তার।
তিনি আরও বলেন, তার স্বামী শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় একজন অসহায় নাগরিক হিসেবে তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তার স্বামীর জানমালের নিরাপত্তা এবং জমিটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
