ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ১৮ নারী-পুরুষ-শিশু
ভারতে কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরলেন পাচার হওয়া ১৮ জন বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশু। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫ টায় ভারতীয় পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী ও তিনজন শিশু।
ফেরত আসারা- যশোর, খুলনা,পঞ্চগড়, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, নরসিংদী, চট্রগ্রাম, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট জেলার বাসিন্দা।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ভালো কাজের আশায় দালালের খপ্পরে পড়ে তারা বিভিন্ন সময়ে সীমান্তপথ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের কলকাতায় গিয়েছিলেন। সেখানে বাসাবাড়ি ও ক্ষেত খামারে কাজ করার সময় সেদেশের পুলিশের হাতে আটক হন তারা। পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে পাঠায়। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আদালত তাদের কারো ৬ মাস, কারো এক বছর কারো, দুই বছর, কারো তিন বছর সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। এদের মধ্যে আনজু বেগম নামে এক নারী ১৫ বছর কারাভোগ করেন। কারাভোগ শেষে ভারতের কলকাতার একটি মানবাধিকার সংস্থা দায়িত্ব নিয়ে তাদের শেল্টার হোমে রাখে। পরে উভয় দেশের দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভের পারমিটের মাধ্যমে বুধবার বিকেলে তারা দেশে ফেরেন।
ওসি আরও জানান, ভারত ফেরত ১৮ নারী-পুরুষ ও শিশুকে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের গ্রহণ করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
দীর্ঘ ১৫ বছর কারাভোগের পর দেশে ফেরার অনুভূতি জানিয়ে আনজু বেগম বলেন, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি। আমি কীভাবে ভারতে গিয়েছি, মনে করতে পারি না। দেশে ফিরে খুব ভালো লাগছে। আমার শেষ জীবনটা বাংলাদেশেই কাটাতে চাই।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের সিনিয়র প্রোগ্রামার অফিসার মুহিত হোসেন বলেন, ফেরত আসাদের বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে গ্রহণ করে তাদের শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে। তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
