ভেঙে গেল উসাইন বোল্টের এক রেকর্ড

  • Reporter Name
  • Update Time : 05:11:53 am, Monday, 13 April 2026
  • 18 Time View

সর্বকালের অন্যতম সেরা গতি তারকা উসাইন বোল্টের রেকর্ড ভেঙে নতুন বিস্ময় সৃষ্টি করলেন ১৮ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলিয়ান তরুণ স্প্রিন্টার। গাউট গাউট নামে ওই অ্যাথলেট অস্ট্রেলিয়ার সিডনির প্রতিকূল আবহাওয়ায় ২০০ মিটার দৌড় শেষ করেছেন মাত্র ১৯.৬৭ সেকেন্ডে। এতে ভেঙে গেল ২৩ বছর বয়সের আগে ২০০ মিটার দৌড়ে বোল্টের গড়া ১৯.৯৩ সেকেন্ডের রেকর্ড।

রোববার (১২ এপ্রিল) নতুন কীর্তি গড়ার দিনে তিনি পেছনে ফেললেন অলিম্পিকে আট স্বর্ণপদক জয়ী বোল্টকে। ২০০৪ সালে জ‍্যামাইকান গতিতারকা সময় নেন ১৯.৯৩ সেকেন্ড।

১৭ বছর বয়সে সেই সময়ের বিশ্ব জুনিয়র রেকর্ড গড়েন বোল্ট। টিনএজার হিসেবে এর চেয়ে কম সময়ে আর দৌড় শেষ করতে পারেননি তিনি। তবে পরবর্তীতে অনেকবারই এর চেয়ে কম সময় নেন তিনি।

প্রতিযোগিতায় গাউটকে কড়া টক্কর দিয়েছিলেন এইডান মারফি নামে আরেক স্প্রিন্টার। মারফি মোড় ঘোরার সময় প্রবল গতিতে এগিয়ে যান এবং মাঝপথে লিডও নিয়েছিলেন। তবে শেষমেষ তিনি ১৯.৮৮ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন।

এদিকে মারফির তুলনায় গাউটের শেষ মুহূর্তের গতি ছিল অনেক বেশি। এতে অস্ট্রেলিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের এই রেসে শেষ হাসি হাসেন গাউট।

জেতার পর অনুভূতি জানাতে গিয়ে গাউট বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তটির জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। আমরা একে অপরকে উৎসাহিত করি… দুজন অস্ট্রেলীয় ২০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়েছে—এটা অবিশ্বাস্য।’

গাউটের লম্বা পদক্ষেপ, সোজা হয়ে দৌড়ানোর ভঙ্গি এবং দৌড়ের শেষদিকে গতির কারণে তাকে ‘পরবর্তী বোল্ট’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

বোল্ট ২০০৮ অলিম্পিকে প্রবেশ করেছিলেন ১৯.৭৫ সেকেন্ডের ব্যক্তিগত সেরা রেকর্ড নিয়ে। গাউট একই বয়সে এখনই সেই রেকর্ড টপকে গেছেন। বোল্টের পরবর্তী ক্যারিয়ার ছিল মহাকাব্যিক—অলিম্পিক সোনা, বিশ্ব রেকর্ড এবং দীর্ঘদিনের আধিপত্য। গাউটের জন্য সেই পথ এখনও অনেক দীর্ঘ।

গাউটের এই উত্থান রাতারাতি কোনো চমক নয়। ২০০৭ সালে কুইন্সল্যান্ডের ইপসউইচে তার জন্ম। তার বাবা-মা দক্ষিণ সুদানের সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়িয়ে মিশর হয়ে ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন।

ইংরাজি বানান অনুযায়ী এই তরুণ স্প্রিন্টারের নামের উচ্চারণ হয় ‘গাউট’। কিন্তু তার বাবা বোনা গুওটের ভাষ্য, সরকারি নথিতে ভুল করে নামের বানান গাউট লেখা হয়েছিল। আসল বানান উচ্চারণ গুওট। তবে এখন গাউট গাউট নামেই পরিচিত তিনি।

দুই বছরেরও কম সময় আগে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করে কুইন্সল্যান্ডের এই কিশোর এক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছে গাউট গাউট। ২০২৪ সালের শেষ দিকে তিনি পিটার নরম্যানের ৫৬ বছরের পুরনো ২০০ মিটারের জাতীয় রেকর্ড ভেঙে দেন। গত বছর জাপানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেক এবং ২০০ মিটারের সেমিফাইনালে পৌঁছে তিনি বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয়েছিলেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী গাউট এ বছর কমনওয়েলথ গেমসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার বর্তমান লক্ষ্য হলো ইউজিন-এ অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

অ্যাথলেটিক্স বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ফর্ম ধরে রাখতে পারলে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে গাউট হবে স্বর্ণপদকের প্রধান দাবিদার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

১ কোটি ৭০ লাখের ঘরে পরীমণি, পিছিয়ে গেল সাকিব

ভেঙে গেল উসাইন বোল্টের এক রেকর্ড

Update Time : 05:11:53 am, Monday, 13 April 2026

সর্বকালের অন্যতম সেরা গতি তারকা উসাইন বোল্টের রেকর্ড ভেঙে নতুন বিস্ময় সৃষ্টি করলেন ১৮ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলিয়ান তরুণ স্প্রিন্টার। গাউট গাউট নামে ওই অ্যাথলেট অস্ট্রেলিয়ার সিডনির প্রতিকূল আবহাওয়ায় ২০০ মিটার দৌড় শেষ করেছেন মাত্র ১৯.৬৭ সেকেন্ডে। এতে ভেঙে গেল ২৩ বছর বয়সের আগে ২০০ মিটার দৌড়ে বোল্টের গড়া ১৯.৯৩ সেকেন্ডের রেকর্ড।

রোববার (১২ এপ্রিল) নতুন কীর্তি গড়ার দিনে তিনি পেছনে ফেললেন অলিম্পিকে আট স্বর্ণপদক জয়ী বোল্টকে। ২০০৪ সালে জ‍্যামাইকান গতিতারকা সময় নেন ১৯.৯৩ সেকেন্ড।

১৭ বছর বয়সে সেই সময়ের বিশ্ব জুনিয়র রেকর্ড গড়েন বোল্ট। টিনএজার হিসেবে এর চেয়ে কম সময়ে আর দৌড় শেষ করতে পারেননি তিনি। তবে পরবর্তীতে অনেকবারই এর চেয়ে কম সময় নেন তিনি।

প্রতিযোগিতায় গাউটকে কড়া টক্কর দিয়েছিলেন এইডান মারফি নামে আরেক স্প্রিন্টার। মারফি মোড় ঘোরার সময় প্রবল গতিতে এগিয়ে যান এবং মাঝপথে লিডও নিয়েছিলেন। তবে শেষমেষ তিনি ১৯.৮৮ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন।

এদিকে মারফির তুলনায় গাউটের শেষ মুহূর্তের গতি ছিল অনেক বেশি। এতে অস্ট্রেলিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের এই রেসে শেষ হাসি হাসেন গাউট।

জেতার পর অনুভূতি জানাতে গিয়ে গাউট বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তটির জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। আমরা একে অপরকে উৎসাহিত করি… দুজন অস্ট্রেলীয় ২০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়েছে—এটা অবিশ্বাস্য।’

গাউটের লম্বা পদক্ষেপ, সোজা হয়ে দৌড়ানোর ভঙ্গি এবং দৌড়ের শেষদিকে গতির কারণে তাকে ‘পরবর্তী বোল্ট’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

বোল্ট ২০০৮ অলিম্পিকে প্রবেশ করেছিলেন ১৯.৭৫ সেকেন্ডের ব্যক্তিগত সেরা রেকর্ড নিয়ে। গাউট একই বয়সে এখনই সেই রেকর্ড টপকে গেছেন। বোল্টের পরবর্তী ক্যারিয়ার ছিল মহাকাব্যিক—অলিম্পিক সোনা, বিশ্ব রেকর্ড এবং দীর্ঘদিনের আধিপত্য। গাউটের জন্য সেই পথ এখনও অনেক দীর্ঘ।

গাউটের এই উত্থান রাতারাতি কোনো চমক নয়। ২০০৭ সালে কুইন্সল্যান্ডের ইপসউইচে তার জন্ম। তার বাবা-মা দক্ষিণ সুদানের সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়িয়ে মিশর হয়ে ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন।

ইংরাজি বানান অনুযায়ী এই তরুণ স্প্রিন্টারের নামের উচ্চারণ হয় ‘গাউট’। কিন্তু তার বাবা বোনা গুওটের ভাষ্য, সরকারি নথিতে ভুল করে নামের বানান গাউট লেখা হয়েছিল। আসল বানান উচ্চারণ গুওট। তবে এখন গাউট গাউট নামেই পরিচিত তিনি।

দুই বছরেরও কম সময় আগে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করে কুইন্সল্যান্ডের এই কিশোর এক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছে গাউট গাউট। ২০২৪ সালের শেষ দিকে তিনি পিটার নরম্যানের ৫৬ বছরের পুরনো ২০০ মিটারের জাতীয় রেকর্ড ভেঙে দেন। গত বছর জাপানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেক এবং ২০০ মিটারের সেমিফাইনালে পৌঁছে তিনি বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয়েছিলেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী গাউট এ বছর কমনওয়েলথ গেমসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার বর্তমান লক্ষ্য হলো ইউজিন-এ অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

অ্যাথলেটিক্স বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ফর্ম ধরে রাখতে পারলে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে গাউট হবে স্বর্ণপদকের প্রধান দাবিদার।