কাঁচা রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী, দ্রুত সংস্কারের দাবি গংগাচড়ার বাসীর
গংগাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:- রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলোতে পানি জমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। ফলে যান চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই এলাকার অন্তত দেড় হাজার (১৫ শ) মানুষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বড়বিল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা কবরস্থান থেকে মকসুদুলের বাড়ি এবং মকসুদুলের বাড়ি থেকে তেলিপাড়া হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল মাজেদের বাড়ি থেকে পাকা মসজিদ পর্যন্ত সড়কটির এই বেহাল দশা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো রাস্তাটি জুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কাদা-পানিতে পিচ্ছিল হয়ে আছে রাস্তার অধিকাংশ অংশ। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে দু-একটি হালকা যানবাহন।
স্থানীয় বাসিন্দা মুকুল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কার করা হয় না। বর্ষার দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা—বোঝার উপায় থাকে না। চার দিন আগে আমার বাসায় আসা মেহমানদের ভ্যানসহ পুলের কাছের এক গর্তে পড়ে উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তেলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তা ভেঙে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। বয়স হয়েছে, ঠিকমতো চলাচল করতে পারি না। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এমনকি এলাকায় কারও বিয়ের অনুষ্ঠান হলে বরযাত্রীদের গাড়িও রাস্তায় ঢুকতে পারে না।
এই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন স্থানীয় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ইউনিয়ন ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কটির দৈন্যদশার কারণে কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
জুয়েল মিয়া নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বর্ষার দিনে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগী ও বয়স্ক মানুষ। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, কোনো যানবাহনই গ্রামে ঢুকতে পারে না। অনেক সময় রোগী কোলে করে পাকা রাস্তা পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়।
সড়কের দুরবস্থার কারণে আয়ের ওপর প্রভাব পড়ার কথা জানান ভ্যানচালক সুরুজ মিঞা। তিনি বলেন, “রাস্তার যা অবস্থা, রাতে ভ্যান নিয়ে বাড়ি ফেরার উপায় থাকে না। অন্যের বাড়িতে গাড়ি রেখে হেঁটে বাড়ি আসতে হয়। প্রায় চার বছর ধরে এই রাস্তার কোনো কাজ হয় না। আমরা জনপ্রতিনিধিদের বারবার বলেছি, কিন্তু কেউ ব্যবস্থা নেয়নি।
দোকানদার কাদের জানান, রাস্তার বাজে অবস্থার কারণে বাজারে বা দোকানে ক্রেতারা আসতে চান না। এলাকার মানুষ দিনদিন নিঃস্ব হচ্ছে এমন যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে।
লিখন মিয়া নামের আরেক বাসিন্দা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রাস্তাটি দ্রুত পাকা বা সংস্কার করা হলে প্রায় ১৫ শ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হতো।
যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শাহীনুর রহমান শাহিন বলেন, “এবারের অতিবৃষ্টির কারণে রাস্তাটি চলাচলের জন্য একদম অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন, আর কত দিন এভাবে ভোগান্তি পোহাতে হবে? জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন ও মেরামতের জন্য টেকসই উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।
